সিনেমার গল্প বাস্তবে, ৮ বৃদ্ধকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে টাকা-গহনা নিয়ে চম্পট মহিলার

উওরপ্রদেশে গাজিয়াবাদের কবিনগর অঞ্চলের বাসিন্দা যুগল কিশোর এক বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে নিজের বিয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দেন। তিনি একজন ইমারত ব্যবসায়ী, প্রচুর টাকাপয়সা রয়েছে। তার ছেলে বিয়ে করে তার স্ত্রীকে নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। যার ফলে কিশোর বাবু একা হয়ে যায়, এই একাকীত্ব কাটানোর জন্য তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি বিয়ে করবেন। শেষ জীবনটা তার জীবন সঙ্গীর সাথে ভালো ভাবে কাটাবেন। তারপরেই ওই বিজ্ঞাপনসংস্থায় মনিকা মালিক নামে এক লাস্যময়ী নিঃসঙ্গ মহিলার সাথে কিশোরবাবুর আলাপ হয়। মনিকা দেবীর নিসঙ্গতার কথা শুনে কিশোর বাবু মনমুগ্ধ হয়ে যান।

আলোচনায় জানতে পারে কিশোরবাবু ,মনিকা দেবীর স্বামী ভালো ছিলেন না, এর জন্যই তিনি বাধ্য হয়েছিলেন সংসার ভেঙ্গে দিতে। এরপর ধীরেধীরে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দুজনে সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করবেন এবং গত বছরে আগস্ট মাসে বিয়ে করে ফেলেন তারা। ভালোই সুখে শান্তিতে সংসার কাটাচ্ছিলেন তারা।

কিন্তু ভবিতব্য হয়তো অন্যকিছু লেখা ছিল, 26 শে অক্টোবর নাগাদ কিশোরবাবু মনিকাদেবীকে খুঁজে পাচ্ছিলেননা এবং তার সাথে তিনি দেখেন পান তার বাড়ি থেকে 15 লক্ষ টাকা এবং অনেক গয়নাগাটি উধাও। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন ।এরপর তিনি বিজ্ঞাপন সংস্থার সাথে যোগাযোগ করেন কিন্তু বিজ্ঞাপন সংস্থা কোন সাহায্যই তাকে করেনা। বরং উল্টে তাকে হুমকি দিতে থাকে যাতে আর কখনো ফোন না করে এখানে এবং তাদেরকে বিরক্ত না করেন।

তারপর কিশোরবাবু বাধ্য হন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে। তারপর পুলিশ অনুসন্ধান করে এই ঘটনাটি নিয়ে এবং জানতে পারে মহিলাটি এক বছরের মধ্যে আট জন নিঃসঙ্গ বৃদ্ধকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের সম্পত্তি লোপাট করে পালিয়ে গিয়েছে এবং এরসঙ্গে বিজ্ঞাপন সংস্থাটিও জড়িত রয়েছে। এখন ওই মহিলা ও বিজ্ঞাপন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং সবাইকে খোঁজ করা হচ্ছে।