কৃষি বিল, সংসদের বাইরে প্রতিবাদ বিরোধী সাংসদদের, অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজ্যসভা মুলতুবি

বুধবার রাজ্যসভার অধিবেশনে অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন চেয়ারম্যান। বিগত কয়েকদিনে অনেক হাঙ্গামার সাক্ষী হয়েছে রাজ্যসভা। বেশ কয়েকটি বিতর্কিত বিল পাশ করা হয়েছে সংসদে। তাই নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদও ছিল চোখে পড়ার মতো। এখনো সংসদের বাইরে বিক্ষোভ জানাচ্ছেন বিরোধী সাংসদেরা। নির্দিষ্ট সময়ের আট দিন আগেই অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হলো। এবার আঠারো দিনের জায়গায় দশ দিন রাজ্যসভার অধিবেশন চলেছে।

উল্লেখ্য এর আগেও দুবার ছয়দিন করে অধিবেশন চলার পর রাজ্যসভা মুলতবি হয়ে যায়। তবে এবার বিরোধীদের প্রতিবাদের মাত্রা কিছু বেশিই ছিল। গায়ের জোরে কৃষি বিল পাশ করানোর অভিযোগ তুলে এবং সংসদ থেকে সাত দিনের জন্য আট জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সংসদের অধিবেশন বয়কট করার ডাক দেন বিরোধী পক্ষের সমস্ত সাংসদ। ফলে কার্যত বিরোধীশূন্য রাজ্যসভায় কেন্দ্র বেশ কয়েকটি বিল পাশ করিয়ে নেয়।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু কোভিড মহামারীর পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজ্য সভার অধিবেশন মুলতবি করে দেন। বিরোধীরা এদিনও রাজ্যসভার বাইরে থেকেই মৌন প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। এদিন তারা মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি থেকে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করেন। এরপর, কংগ্রেস, টিএমসি, বাম দল, আরজেডি, আপ, এসপি ও এনসিপি-র সাংসদরা জোট বদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের ঐক্যবদ্ধতার প্রমান দেন।

কংগ্রেসের চিফ হুইপ জয়রাম রমেশ অভিযোগ জানিয়েছেন, বিরোধীদের সাথে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই সংসদে কৃষক বিরোধী, শ্রমিক বিরোধী বিল পাশ করাচ্ছে কেন্দ্র। তাই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে কংগ্রেস এবং সমভাবাপন্ন অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। এদিন রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদের ঘরে বসে বৈঠক করেন তিনি। আগামী দিনে কিভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে তাই ছিল এদিনের বৈঠকের আলোচ্য বিষয়। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির কাছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চেয়েছেন বিরোধীরা। তবে,করণা মহামারীর জন্য রাষ্ট্রপতি কেবল পাঁচজনকে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছেন।