এখানকার সম্প্রদায়ের লোকেরা মহাভারতের শকুনি মামার পু’জো করেন, শু’ন’লে অ’বা’ক হবেন আপনিও

মহাভারতের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শকুনি মামা। শকুনি ছিল মহাভারতের অন্যতম খলনায়ক। কিন্তু তাহলে কেন খারাপ লোক হওয়া সত্ত্বেও শকুনিকে পুজো করা হয়? শকুনিরা ছিলেন একশো ভাই। শকুনির বোন হল গান্ধারী। শকুনির বাবা সুবল ছিলেন গান্ধার দেশের রাজা। ভীষ্ম ধৃতরাষ্ট্রের জন্য পাত্রী হিসাবে গান্ধার রাজকন্যা সুন্দরী গান্ধারীকে পছন্দ করলেন। কিন্তু শকুনির অমতেই ধৃতরাষ্ট্রের সঙ্গে গান্ধারীর বিয়ে হয়েছিল। গান্ধার রাজ জ্যোতিষ বিচার করে জানতে পেরেছিলেন যে গান্ধারীর বিয়ের পর স্বামী মারা যাবে।

তাই সেই বৈধব্য দশা কাটানোর জন্য বিয়ের আগে একটা ছাগলের সঙ্গে গান্ধারীর বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বোনের বিয়ের পর শকুনিও কৌরবদের রাজবাড়িতে এসে থাকতে শুরু করল। কৌরবরা যখন জানতে পারে গান্ধারীর বিধবা হওয়ার খবরটা রাজা সুবল গোপন করেছিল, তখন কৌরবরা ক্ষিপ্ত হয়ে গান্ধার রাজ্য আক্রমণ করল।রাজা সুবল ও তার একশো ছেলেকে বন্দী করে নিয়ে এসে কারাগারে রাখল। শকুনিও ছিল তার মধ্যে। কারাগারে প্রতিদিন সবার খাওয়ার জন্য মাত্র এক সরা করে ভাত দেওয়া হত। সুবল জানতেন এই এক সরা ভাত খেয়ে তারা কেউ বাঁচবে না। তাই তিনি ঠিক করলেন এই এক সরা ভাত শুধু শকুনি খাবে। কারণ রাজা সুবল জানতেন শকুনি তাঁর সব ছেলেদের চেয়ে বুদ্ধিমান। সেই পারবে এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে।

রাজা সুবল শকুনিকে বললেন, “আমি চাই তুমিই বেঁচে থেকে কৌরবদের ধ্বংস কর। আমার মৃত্যুর পর আমার হাড় দিয়ে তুমি পাশা বানাবে। আর এই মন্ত্রপুত পাশা তোমাকে সব খেলায় জেতাবে।” এরপর একে একে সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে লাগলেন। বাবার মৃত্যুর পর শকুনি বাবার শরীরের হাড় দিয়ে পাশা বানাল। শকুনি দুর্যোধনদের সঙ্গে সব ঝামেলা মিটিয়ে নিয়ে আবার কৌরবদের বাড়িতে থাকতে লাগলেন ভাগ্নে দুর্যোধনের পরামর্শদাতা হিসাবে। শকুনি কিন্তু বাবা ও তার ভাইদের মৃত্যুর কথা ভোলেনি। তাই বুকে সবসময় প্রতিশোধের আগুন জ্বলত। এরপর যুধিষ্ঠির পাশা খেলায় শকুনির মন্ত্রপুত পাশার কাছে হেরে গেলেন। মহাভারতের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। অবশেষে কৌরব বংশ ধ্বংস হল। শকুনির মনের ইচ্ছা পূরণ হল।

এতকিছুর পরে একটা কথায় বারবার মাথায় আসে শকুনির চরিত্র কিন্তু নিষ্কলঙ্ক ছিল। কোনো কিছুর প্রতি তার মোহ ছিল না। শকুনি শিবের ভক্ত ছিলেন।শকুনি শুধু অন্যায়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল।একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ এসব ঘটনা জানতেন। তাহলে এতো বলাই যায় যে শকুনি খারাপ লোক ছিল না। কেরালার কোল্লাম জেলায় পবিত্রাশরণে শকুনির একটি মন্দির আছে। শকুনিকে সেখানে একটি সম্প্রদায়ের মানুষ পুজোও করেন।