‘‌কোনও গোটা সম্প্রদায়কে নিশানা করতে পারে না মিডিয়া’, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সম্প্রতি বিশিষ্ট টিভি সংবাদ মাধ্যম “সুদর্শন টিভি”র তরফ থেকে দাবি করা হয়, সরকারি চাকরিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে বেশ বড় সড় ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে দেশে। এ সম্পর্কে টিভি সংস্থার তরফ থেকে একটি বিশেষ শো এর আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি এই শো এর প্রোমো প্রকাশ্যে আনা হয়। সেই ভিডিও ক্লিপে সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দাবি করা হতে থাকে, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বেশ বড়সড় ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করতে চলেছে সুদর্শন টিভি, এই শো এর মাধ্যমে।

এরপর থেকেই শো সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। যে বিতর্কের রেশ সুপ্রিম কোর্ট অব্দি গড়ায়। সম্প্রতি, সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে “ইউপিএসসি জিহাদ” মামলায় শুনানি দেওয়া হয়েছে, যেখানে সুদর্শন টিভিকে কড়া ভাষায় ধমক দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, শো চলাকালীন কোনো একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে এভাবে দোষারোপ করা যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি যদি সিভিল সার্ভিসে চাকরি করার সুযোগ পান, তাহলেই তার সাথে আইসিস জঙ্গী সংগঠনের যোগাযোগ থাকতে পারে, এমনটা ভাবা ভিত্তিহীন। পাশাপাশি, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায় অংশগ্রহণ করা মানে সেখানে যে কোনো রকম ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, এমন ধারণা পোষণ করা কার্যত ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ। দেশের শান্তি রক্ষার্থে এমন বিভাজন মূলক রাজনীতি করা যাবে না।

উল্লেখ্য, মুসলিম সম্প্রদায় থেকে যারা ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তাদের প্রশিক্ষণ দেয় জাকাত ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের সাথে সন্ত্রাসবাদি সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন “সুদর্শন টিভি”র সম্পাদক সুরেশ চাভানক। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য সংস্থার তরফের আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে জানিয়েছেন, শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের নয়, অমুসলিমদেরও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশিক্ষণ দেয় জাকাত ফাউন্ডেশন। সুপ্রিমকোর্টের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শো সম্প্রচার করা যাবে, তবে মুসলিম সম্প্রদায়কে দোষারোপ করে নয়।