বৌদ্ধদের দীর্ঘদিনের লড়াই, অবশেষে গোহত্যা নিষিদ্ধ হচ্ছে শ্রীলঙ্কায়

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, সাধনা, এবং আন্দোলনের ফলশ্রুতি হিসেবে অবশেষে শ্রীলঙ্কায় গো হত্যা নিষিদ্ধ হতে চলেছে। শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে  সংসদীয় কমিটির বৈঠকের সময় নিজে এই প্রস্তাব রেখেছেন। তার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে অবিলম্বে এ সংক্রান্ত বিল আনার দাবি জানাতে থাকেন সংসদে উপস্থিত সাংসদেরা। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, গরুকে যারা দেবতা জ্ঞানে পূজা করেন।

শ্রীলঙ্কায় মাংসের চাহিদা পূরণ করার জন্য গো হত্যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। ২০১৩ সালের ২৬ জুন কলম্বোয় সিংহল রাভায়া সংগঠনের  বৌদ্ধ ভিক্ষুরা প্রবল আন্দোলনে সামিল হন। শ্রীলঙ্কায় গো-হত্যার ঘোর বিরোধী বৌদ্ধ ভিক্ষুকেরা। আন্দোলনকারীদের মধ্যে উপস্থিত একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু গো হত্যা বন্ধের দাবি জানাতে জানাতে নিজের গায়ে অগ্নিসংযোগ করে ঘটনাস্থলেই প্রাণ ত্যাগ করেন।

আন্দোলনকারীদের দাবিকে মর্যাদা জানিয়ে শ্রীলঙ্কায় এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। শ্রীলংকার সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শ্রীলংকার শাসক দল “শ্রীলঙ্কা পোদুজানা পেরামুনা” এর তরফ থেকে  সংসদে দেশজুড়ে গো হত্যা বন্ধের প্রস্তাব পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, শ্রীলংকার অধিকাংশ বাসিন্দাই গোহত্যার ঘোর বিরোধী। অনেকেই গরুকে দেবতা জ্ঞানে পূজা করেন। তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে যাতে কোনোরকম আঘাত না লাগে সেই উদ্দেশ্যে অবিলম্বে এই প্রথা বন্ধ করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব মেনে নেন সংসদে উপস্থিত বাকি সাংসদেরা। এ সম্পর্কে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার মুখপাত্র কেহেলিয়া রামবুকবেলা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর গো হত্যা বন্ধের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন সংসদের বাকি সদস্যরা। শীঘ্রই এ সংক্রান্ত আইন আসতে চলেছে শ্রীলঙ্কায়। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হলে,ভবিষ্যতে গোমাংস চাহিদা পূরণ করার জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে বলে জানা গেছে।