সব দিক থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পাঠালো বাংলাদেশ

চারিদিক সমুদ্র ঘেরা এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হলো ভাসানচর। প্রায় চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নতুন ঠিকানা এখন এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। তাদের দ্রুত গতিতে সেখানে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সরকারি কোষাগার থেকে অন্তত তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে এক লক্ষ রোহিঙ্গার বসবাসের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে ভাসানচরে, এমনটাই জানাচ্ছে শেখ হাসিনার প্রশাসন।

চলতি দফায় শনিবার সকালে ১ হাজার ৪৬৪ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেকে নোয়াখালির ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। গতকাল ১ হাজার ৭৭৮ জন রোহিঙ্গাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই অন্তত চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে আরো ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠাতে চলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভাসানচরের ওই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য আলাদা ঘর, আধুনিক সেনিটারি পদ্ধতি, বিশুদ্ধ খাবার জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং শিশুদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের শুরুর দিকে মায়ানমার থেকে অন্তত চার লক্ষ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেন।

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সংখ্যাটা ৭-৮ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছিল। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্য, বাসস্থান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা তৎক্ষণাৎ সম্ভব ছিল না। তবে এতদিনে ভাসানচরে তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা সম্ভবপর হয়েছে, এমনটাই জানাচ্ছে বাংলাদেশের প্রশাসন।