ইচ্ছে করলেই আরো ধার করতে পারবে রাজ্য, আইনি ক্ষমতা নিজেদের কাছে রাখলো রাজ্য

অতিমারি করোনার প্রভাবে নাজেহাল সারা বিশ্ব। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি – উন্নয়নের এই তিন স্তম্ভকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে করোনা। এহেন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চায় করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন, উপযুক্ত ঔষধি এবং প্রচুর অর্থ যা অর্থনীতির হাল ফেরাতে পারবে। কিন্তু বিগত প্রায় আট মাসে দেশের অর্থনীতির গ্রাফ তলানিতে চলে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে প্রতিটি রাজ্যের অর্থনীতিতে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবার এক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করলো রাজ্য সরকার।

সম্প্রতি, ২০১০ সালে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ন্ত্রণ আইন তথা এফআরবিএমে সংশোধন আনলো রাজ্য সরকার। সংশোধিত আইন অনুসারে, রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি মেটাতে এবং রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে আরও পাঁচ বছরের জন্য ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে নেওয়া হলো। উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে রাজ্যের তরফ থেকে গৃহীত ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৩.৩ শতাংশ।

নতুন প্রস্তাবিত আইন অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে প্রতিবছর ৩৪.৩ শতাংশ ঋণ নিতে পারবে। অর্থাৎ রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে গৃহীত ঋণের পরিমাণ প্রায় এক শতাংশ বাড়িয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। করোনাকালে রাজ্যের আর্থিক চাহিদা বেড়েছে। সেই চাহিদা মেটাতেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।

অর্থনীতিবিদদের মতে, করোনা পরিস্থিতির দরুন দেশে যে অর্থনৈতিক ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে, তার দ্রুত নিরূপণ করা সম্ভব হবে না। দেশের অর্থনৈতিক গ্রাফ আবার পূর্ব অবস্থানে ফিরে আসতে বেশ কিছু কাল সময় নেবে। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাসে দেশের জিডিপি সংকোচনের হার প্রায় ২৪ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। রাজ্যের তরফ থেকে তাই এবার আগামী পাঁচ বছরের জন্য মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে ঋণের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে নিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।