নির্বাচন কমিশনের অতি সক্রিয়তায় তটস্থ রাজ্য প্রশাসন

এতদিন থেকে তাই হয়ে আসছিল, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন দীর্ঘ দিনের নিয়ম হিসেবেই এতদিন জেলা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য আদায় করত। এবারেও তার অন্যথা হয়নি কিন্তু,কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন নিজেদের নিখুঁত তথ্য গ্রহণ করে যেসব তথ্য সবার সামনে তুলে ধরেছেন তা সত্যিই নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। এই কারণেই নির্বাচনের দুই মাস আগে নির্বাচন কমিশনের হোমওয়ার্কে অনেকটাই অস্বস্তির মধ্যে পুলিশ প্রশাসন। তাদের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, পুলিশ প্রশাসনের অতীত ও সাম্প্রতিক ঘটনা একেবারে তাদের ঠোঁটের ডগায়।

গত 21 জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনার সুনিল আরোরা কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন উজ্জ্বলা শাসকদের সাথে একটি দীর্ঘ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। আর সেখানেই নির্বাচন কমিশন এমন সব গোপন তথ্য তুলে ধরেছে যা শুনে অনেকটাই চাপের মধ্যে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে সব দিকেই নজর রাখছে তারা। তাছাড়া এমন সব খুঁটিনাটি তথ্য কমিশনের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে যা সমস্ত তাই সত্যি বলে স্বীকার করেছে পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে সেই বৈঠকে সতর্কবার্তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে, সমস্ত পুলিশ প্রশাসনদের। যদি আগামীতে কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ লক্ষ্য করা যায় তাহলে চাকরিতে কালো দাগ পড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে আসল প্রশ্ন যেটা সবার মনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, হল কমিশনের এই সমান্তরাল তথ্য বিনিময়ের সূত্র টা আসলে কোথায়?

বড় কোন দিক থেকে নয় সমস্ত ছোটখাটো খুঁটিনাটি দিক থেকেও নির্বাচন কমিশন একেবারে সজাগ। কারণ একেবারে নিচুতলার আইসি ওসি বদল এর খুঁটিনাটি তথ্য রয়েছে কমিশনের কাছে। এর থেকেও বড় তথ্য অবাক করেছে সবাইকে, সেটা হল পুলিশ জেলা গঠন করার প্রক্রিয়া।নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে গত কয়েক বছরের মধ্যে একই জেলায় কয়েকটি পুলিশ জেলা গঠন করা হয়েছে। আর তা ঠিক পরেই একই জেলার পুলিশকে যেকোনো একটি পুলিশ জেলার মধ্যে বদলি করা হয়েছে, প্রকাশ্যে দেখানো হয়েছে পুলিশ বদলি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই এই কাজ করা হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে সব পুলিশ রয়ে গেছে একটি জেলাতেই। শুধু পুলিশ প্রশাসন নয় বিভিন্ন উচ্চস্তরের প্রশাসনিক কর্তাদের বদলি নিয়েও তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন, আর এইসব খবর পাওয়া মাত্রই রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা যাচ্ছে।