আশ্চর্যজনক ভাবে বাড়ছে ইঁদুরের সংখ্যা, দিন-রাত এক করে ইঁদুর ধরতে ব্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার জনগণ

অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ করে নিউ সাউথ ওয়েল্স এবং কুইন্সল্যান্ড এলাকাতে ইঁদুরের বংশ বিস্তার বেড়ে গেছে রীতিমতো আতঙ্কিত হারে। শুধুমাত্র মানুষের বাড়িতে যত্রতত্র তারা হানা দিচ্ছে তা কিন্তু নয়, শপিংমল, সিনেমাহল,দোকানপাট, এমনকি রাস্তাঘাটেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তাদের। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করে মানুষ যেতে পারছে না ইঁদুরের উৎপাতে। ফলে এখন অন্য সমস্ত কিছু কাজ পাশে সরিয়ে রেখে অস্ট্রেলিয়ার মানুষজন মন দিয়েছে ইঁদুর ধরার কাজে। রীতিমত ভিডিও করে তারা নজর রাখছেন ইঁদুরের গতিবিধির ওপর, তাই শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।

কিভাবে এত বেড়ে গেল ইঁদুর অস্ট্রেলিয়াতে?

কিছু বছর আগেও যে অস্ট্রেলিয়ায় একেবারেই ইদুর ছিল না, সেখানে বৃটেনের সঙ্গে বাণিজ্য নীতির হাত ধরে অস্ট্রেলিয়ায় ইঁদুর এসেছিল বলে জানা যায়। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইঁদুর দেখা যায় ১৭৮৭ সালে। তারপর থেকে প্রত্যেক বছর রেকর্ড হারে বংশবিস্তার করে চলেছে এরা। করেছে ফসলের ক্ষতি। শুনতে পাওয়া যায় যে, প্রতি চার বছর অন্তর অস্ট্রেলিয়া ইঁদুরের উৎপাত এর মুখে পড়ে।

শুধুমাত্র ফসলের ক্ষতি করে শান্ত থাকে না তারা, ইঁদুরের আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে গবাদিপশুকেও। বিভিন্ন খামারে গবাদিপশুর শরীরে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ইদুরের কামড়ের দাগ। অনেক পশুর সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দিচ্ছে এই ইঁদুর। ইঁদুরের আক্রমণে দেশের প্রাণিসম্পদ এসে দাঁড়িয়েছে বিপদের মুখে।

একইসঙ্গে রবার এবং বিদ্যুতের কারখানার সমূহ ক্ষতি করছে এই ইঁদুর। ক্ষতি হচ্ছে যানবাহনের ও। নানান জায়গায় তার কেটে দিয়ে পরিষেবা ব্যাহত করে দেওয়ার মত অনাচার ঘটিয়ে যাচ্ছে ইদুর।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াকে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়েছে। বনভূমিতে বারবার দাবানল হয়ে যাওয়ায় ইদুর পালিয়ে লোকালয়ে চলে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও কিছুদিন আগেই নিউ সাউথ ওয়েলসের বন্যা হয়েছে যার ফলে মাঠ ঘাট ছেড়ে দিয়ে ইঁদুর রা এসে পড়েছে জনবসতি তে। গতবছর একবার চেষ্টা করেও ইঁদুরকে রোধ করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া সরকার। তারপর নানাভাবে তাদেরকে আটকানো প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকার, কিন্তু যেভাবে ধীরে ধীরে এদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে তার ফলে ভবিষ্যতের চিন্তায় রীতিমতো দুশ্চিন্তা করেছেন সেখানকার মানুষ।