সাধারণ মানুষদের নিশানায় মোদি সরকার, রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি নিয়ে অসন্তোষ

বিগত কয়েক মাস ধরে, রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো আবার ভর্তুকির একটি টাকাও পাননি গ্রাহক। এ বিষয়ে অবশ্য কেন্দ্রের দাবি, করোনা পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কমেছে। ফলে ভর্তুকি বিহীন গ্যাসের দাম এবং ভর্তুকি যুক্ত গ্যাসের দামের মধ্যে এই মুহূর্তে বিশেষ কোন ফারাক নেই। ফলে ভর্তুকি কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

তবে কেন্দ্রের এই দাবি মানতে নারাজ বিরোধীপক্ষরা। তাদের দাবি, গত ২০১৯ সাল থেকেই গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম প্রতি মাসে ১০ টাকা করে বাড়িয়েছে কেন্দ্র। ফলে গত এক বছরে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়তে বাড়তে প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। আর এতেই ভর্তুকি যুক্ত গ্যাসের দামের সাথে ভর্তুকি বিহীন গ্যাসের দাম মিলে গেছে বলে দাবি করছেন সরকার বিরোধীরা।

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছেন, করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কাছে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ অর্থ জোগান দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাব তো মানলোই না,উপরন্তু গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বাড়তি মুনাফা আদায় করল। এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে গ্যাসের দাম কমে গেছে। তবুও এ দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমায়নি কেন্দ্র।

অধীর চৌধুরীর দাবি, কেন্দ্রের তরফ থেকে যে সেস ধার্য করা হয়েছে, সেখান থেকেও লাভের মুখ দেখেছে কেন্দ্র সরকার। সেখান থেকেও তো সাধারন মানুষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া যেত। তিনি আরো বলেছেন, অর্থনৈতিক ঘাটতি সামলাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ কেন্দ্রীয় সরকার। এইজন্যেই বাজারে মূল্য বৃদ্ধির মতো সমস্যা আরো বেড়েছে। তার উপর পেট্রোল-ডিজেলের দাম তো কমালোই না সরকার, উপরন্তু এখন ভর্তুকির টাকাও কেটে নেওয়া হচ্ছে।