এবার স্বল্প মূল্যে ক’রোনা পরীক্ষা করবে ফেলুদা, অনুমোদন দিল ডিসিজিআই

বিশ্বজুড়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে মহামারি করোনা। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যেই দেশের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনা থেকে বাঁচার জন্য যত শীঘ্র সম্ভব রোগী সনাক্তকরণ করে তাকে আইসোলেশনে রেখে তার চিকিৎসা করতে হবে। তবেই এই মহামারী থেকে মুক্তি সম্ভব। এর জন্য ব্যাপক হারে করোনা টেস্ট বাড়াতে হবে।

কম খরচে এবং কম সময়ের মধ্যে করোনা রোগের সনাক্তকরণ করার জন্য এবার দেশে আসতে চলেছে “ফেলুদা”। যার পুরো নাম, এফএনক্যাস৯ এডিটর লিঙ্কড উইনিফর্ম ডিটেকশন অ্যাসে। এটি দেশের প্রথম ক্লাস্টার্ড রেগুলারলি ইন্টারস্পেসড শট প্যালিনড্রোমিক রিপিট, যা দেশজুড়ে করোনা পরীক্ষা করবে। এই টেকনিকটিকে আবিষ্কার করেছেন দিল্লির ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্ট্রিগ্রেটেড বায়োলজি ডিপার্টমেন্টের বাঙালি বৈজ্ঞানিক দেবজ্যোতি চক্রবর্তী এবং সৌভিক মাইতি।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই পদ্ধতিতে প্রথমে করোনাভাইরাসের আরএনএকে ডিএনএতে পরিবর্তন করা হবে। এরপর পলিমারেজ চেইন রিয়াকশনের মাধ্যমে ওই ডিএনএ থেকে একাধিক ডিএনএ কপি বানানো হবে। এই কপি ডিএনএর সাথে এরপর ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিনের সংযুক্তিকরণ করা হবে। এর ফলে ভাইরাসের ডিএনএ চিহ্নিত হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কাগজের স্ট্রিপের উপর সন্দেহভাজন ব্যক্তির লালা রসের নমুনা রাখা হবে।

সেই স্ট্রিপে বেশ কয়েকটি দাগ ফুটে উঠবে। এর মধ্যে প্রথম যাত্রী হলো কন্ট্রোল লাইন, যেখান থেকে বোঝা যাবে স্ট্রিপটি সঠিকভাবে কাজ করছে। পরে দ্বিতীয় যে দাগটি ফুটে উঠবে সেটিকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় টেস্ট লাইন বলা হয়। স্ট্রিপে এই দাগ ফুটে ওঠার অর্থ হলো পরীক্ষাধীন ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত। গবেষকদের দাবি অত্যন্ত কম খরচে, মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই এই টেস্ট করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার অনুমোদন পেয়েছে “ফেলুদা”। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে অনুমোদন মিললেই, এই প্রক্রিয়াটিকে বাস্তবে ব্যবহার করা যাবে।