চিটফান্ডে আমানতকারীরা ফেরত পাচ্ছেন টাকা, শুরু ফর্ম বিলি! জানুন খুঁটিনাটি

ছবিঃ shutterstock

বেসরকারি লগ্নি সংস্থা পিনকনকে হাজার হাজার আমনতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক মৌ চট্টোপাধ্যায়। চিটফান্ড প্রতারণা নিয়ন্ত্রণের নতুন আইনে ওই লগ্নিসংস্থার বিরুদ্ধে হওয়া প্রতারণার মামলায় আমানতকারীদের পক্ষে রায় দিয়ে তাদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

এরপরই আদালতের নজরদারিতেই আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর পুরো প্রক্রিয়া আরম্ভ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক, মহিষাদল, ভগবানপুর, দিঘা, মন্দারমনি-সহ বিভিন্ন থানা মিলিয়ে পিনকন সংস্থায় প্রায় ৩৯ হাজার আমানতকারীর টাকা রয়েছে। তাঁদের টাকা ফিরে পাওয়ার আবেদনের জন্য ফর্ম বিলির কাজও শুরু হয়েছে।

একাধিক প্রক্রিয়ায় আমানতকারীদের আদালত থেকে ফর্ম নিয়ে প্রয়োজনীয় যাবতীয় প্রমাণ সহযোগে সেই ফর্মগুলি ফিল আপ করে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদালতে রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আমানতকারীদের ফর্ম বিতরনের কাজ শুরু হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার আমনাতকারী তমলুকে পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের (তৃতীয় আদালত) অফিসের কাছে নিজেদের টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় ভির জমিয়েছেন।

পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে এবং দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আদালত প্রাঙ্গণ কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ঘিরে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনেই আদালত থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় ৬০০ জন লগ্নীকারীকে ফর্ম দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আমানতকারীদের আদালত চত্বরে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে পিনকন সংস্থায় নির্দিষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না বলে খেজুরি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আমানতকারীর একাংশ। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়। তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করে রাজ্য সরকারের ডিরেক্টর অফ ইকোনোমিক অফেন্স (ডিইও)।

সংস্থার কর্ণধার মনোরঞ্জন রায় এবং পিনকনের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার মামলাও দায়ের করা হয়। এরমধ্যে নিজেদের কষ্টের টাকা ফিরে পাওয়ার ঘোষণায় খুব খুশি হয়েছেন আমানতকারীরা।

সমস্তরকম এক্সক্লুসিভ খবর পেতে লাইক করুন