মুর্শিদাবাদের ৬ জঙ্গির সঙ্গে আল-কায়দার যোগ, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতীক ছবি

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ এবং কেরালা এর্নাকুলাম থেকে নয় জন আল-কায়েদা জঙ্গী গোষ্ঠীর সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর থেকেই ধৃতদের জেরা করতে শুরু করেছেন তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা। মুর্শিদাবাদ থেকে এদিন ছয় জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়, কেরালা থেকে আরও তিনজন। তবে তদন্তকারী দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কেরালার ওই তিনজন জঙ্গিও আসলে মুর্শিদাবাদ থেকেই কেরালায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ধৃতদের জেরা গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু গোপন তথ্য জানতে পেরেছে তদন্তকারী দল।

জাতীয় তদন্তকারী দল সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রানীনগর থেকে আবু সুফিয়ানকে, ডোমকল থেকে শাকিব নামক এক যুবককে, জলঙ্গীর মধুবোনা থেকে মইনুল মন্ডলকে, উত্তর ঘোষপাড়া থেকে আতিউর রহমানকে, ডোমকলের নওদাপাড়া থেকে আল মামুনকে এবং গঙ্গাদাসপাড়া থেকে নাজমুস শাকিব নামক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে শাকিব একজন কম্পিউটার সাইন্সের ছাত্র। তার মোবাইল থেকে একাধিক কাশ্মীরি নম্বর উদ্ধার করা হয়েছে।

পাশাপাশি আবু সুফিয়ান নামক জঙ্গীটি আগেভাগেই টের পেয়ে যায়, গোয়েন্দা তাদের ওপর নজর রাখছে। ফলে, শুক্রবার রাতে সে ফোনের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করেছে। এই ব্যক্তিদের খোঁজে অনুসন্ধান চালাচ্ছে তদন্তকারীরা। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গী নাশকতা মূলক কার্যকলাপ চালানোর পরিকল্পনা করছিল এই জঙ্গিরা। ধৃতদের একাধিক দেশীয় পিস্তল, ফোন এবং ডিটোনেটর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ট্রানজিট রিমান্ডে ধৃত জঙ্গিদের বর্তমানে দিল্লিতে রাখা হয়েছে। আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএর হেফাজতেই থাকবে। এনআইএর পাশাপাশি বেঙ্গল এসটিএফের আধিকারিকেরাও ধৃতদের জেরা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার সাথে জড়িত এক অপরাধীর কাছ থেকে একটি ফোন নাম্বার পায় তদন্তকারী সংস্থা। সেই নাম্বারটি মুর্শিদাবাদ থেকেই অপারেট করা হচ্ছে বলে জানতে পারেন তারা। এরপর তদন্ত চালিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে ছয়জন এবং কেরালা থেকে তিনজন আল-কায়েদা জঙ্গী’কে গ্রেফতার করে এনআইএ।