ছায়াপথের শব্দ শুনতে পারবেন আপনিও, যুগান্তকারী আবিষ্কারে হতভম্ব গোটা বিশ্ব

আমাদের হাতের কাছে যা থাকে না, চিরকাল সেই জিনিস নিয়েই আমাদের আগ্রহ বেশি। এই ব্রম্ভান্ডের বহু জিনিস আমাদের কাছে এখনো অজানা। মহাকাশ, ছায়াপথ গ্রহ এবং নক্ষত্র নিয়ে আমাদের জিজ্ঞাসা চিরকালের। বিজ্ঞানীরা রহস্য উন্মোচনের জন্য রাত দিন কত আবিষ্কারই না করে চলেছেন। সম্প্রতি তেমনই একটি আবিষ্কার সকলের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। ছায়াপথে যাবতীয় শব্দ নাকি এবার শোনা যাবে সরাসরি। ইতিমধ্যেই সার্টিফিকেশন এর মাধ্যমে ছায়াপথের যাবতীয় ছবি, যেটা কিনা টেলিস্কোপ এর মধ্যে ধরা পড়ে, তাকে এবার বদলে ফেলা যাবে শব্দতে।

এর মধ্যেই কিন্তু ‘সুপারনোভা ক্যাসিওপিয়া’ এবং ‘প্লেস অফ ক্রিয়েশন’- এই দু’টি ছবিকে বদলে ফেলা গিয়েছে শব্দতে।এইরকম মহাজগতিক ছবি আমরা প্রায়ই বিভিন্ন শক্তিশালী টেলিস্কোপ যন্ত্র দ্বারা।শক্তিশালী টেলিস্কোপ যন্ত্র মহাকাশের কোন একটি জায়গা থেকে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করে সেই তথ্যকে রূপান্তরিত করে ছবিতে।সেই ছবি দেখলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করে নেন যে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশের ওই অংশের অবস্থা এবং চেহারা কিরকম হতে পারে।

সানি ফিকেশন পদ্ধতি হলো সেই দৃশ্যমান তথ্যকে শব্দ তে রূপান্তরিত করা। কোন একটি ছবির বাম দিক থেকে ডান দিকে ধীরে ধীরে সার্টিফিকেশন পদ্ধতি সম্পন্ন হয়, এবং সেই ছবিটি রূপান্তরিত হয়ে যায় শব্দে।সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছেন যে,এই সার্টিফিকেশন এর মাধ্যমে আকাশগঙ্গা কেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের সমস্ত শব্দ ধরা দিয়েছে। নাসা চন্দ্র এক্সরে অবজারভেটরি তে থাকা হাবল টেলিস্কোপ মারফত ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে থাকা মহাশূন্যে সমস্ত শব্দ এবার ধরতে পারা যাবে এই উন্নত সনি ফিকেশন পদ্ধতিতে।

আমরা আকাশগঙ্গা নামে একটি মাত্র ছায়াপথের কথা শুনেছি। এই আকাশগঙ্গার কেন্দ্রে পৌঁছে মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।সূর্যের মত হাজার হাজার নক্ষত্র রয়েছে এই আকাশগঙ্গার মধ্যে। এবার বিজ্ঞান সুযোগ করে দিয়েছে আকাশগঙ্গা কে হাতের মুঠোতে নিয়ে আসার। বিজ্ঞানী দের অনুমান অনুযায়ী, আকাশগঙ্গার কেন্দ্র থেকে কয়েক লক্ষ বছর আগে তৈরি হয়েছিল আমাদের এই পৃথিবী। যদি ওই অঞ্চলের শব্দ কানে শোনা যায়,তাহলে একদিন এই মহাকাশের আরো নানা রকমের রহস্যের জট খুলবে বলে আশাবাদী মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।