নদী তীরে ভেসে আসছে মুঘল আমলের বিভিন্ন মোহর, গুপ্তধনের সন্ধানে ব্যাপক হাঙ্গামা মধ্যপ্রদেশে

গুপ্তধন নিয়ে মানুষের উৎসাহ কিছু কম নয়। প্রাচীন যুগের মণিমুক্তো, রত্না-লঙ্কার বিশেষত প্রাচীন আমলের সোনা-রুপার মুদ্রা লাভের আশায় অনেকেই মাটির তলে খোঁড়াখুঁড়ি করেন। এদের মধ্যে অনেকেই ব্যর্থ হন, তবে অনেকেই আবার প্রাচীন আমলের সেই সকল ধন-সম্পদ লাভ করেন। অনেকে গুপ্তধন লাভের আশাতেই খোঁড়াখুড়ির কাজ চালিয়ে যান। আবার ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন হলে সম্পূর্ণ অযাচিতভাবে গুপ্তধন এমনিতেই মানুষের হাতে চলে আসে।

যেমনটা হয়েছে মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার মৎস্যজীবীদের সঙ্গে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা পার্বতী নদীর নিকটবর্তী তটে বেশ কিছু প্রাচীন আমলের মুদ্রা খুঁজে পেয়েছেন। এই মুদ্রাগুলি মুঘল আমলের মুদ্রা বলে দাবি করা হচ্ছে। পার্বতী নদী তটে গুপ্তধন পাওয়ার খবর দ্রুত আশেপাশের গ্রামগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ নিকটবর্তী শিবপুরা এবং গরুড়পুরা গ্রামের বাসিন্দারা এখন রাত দিন এক করে গুপ্তধন খোঁজার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহর থেকে অন্তত ১৪১ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত পার্বতী নদী তট। ওই নদীর ধারেই সম্প্রতি কিছু ব্রোঞ্জের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ওই প্রাচীন মুদ্রা পেয়েছেন এলাকার মৎস্যজীবীরা। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই নিকটবতী গ্রামের শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্করা ওই অঞ্চলে ছুটে আসেন। এদের মধ্যে অনেকেই আবার নদীর ধারে তাঁবু বানিয়ে নিয়েছেন। সেখানেই চলছে থাকা-খাওয়া।

সারাদিন ধরে গুপ্তধন খোঁজাখুঁজির পর্ব চলে। রাজগড়ের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় সর্বদা কড়া পুলিশি প্রহরা রাখা হচ্ছে। গুপ্তধন ব্রোঞ্জের হলে কি হবে, ব্রোঞ্জ মুদ্রা নিয়েই গ্রামবাসীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। দিন রাত অবিরাম পরিশ্রম করে তারা গুপ্তধন খুঁজে চলেছেন। তাদের বিশ্বাস অচিরেই আরও অনেক গুপ্তধন পাবেন তারা।