বয়স ১৮৪ বছর, তবুও বেঁচে আছেন, মৃত্যুর আশা ছেড়ে দিয়েছেন বৃদ্ধ

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর বিখ্যাত “বঙ্গভূমির প্রতি” কবিতাটিতে লিখেছিলেন, “জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে?/চিরস্থায়ী কবে নীর হায়রে জীবন নদে?”। জন্ম-মৃত্যুর নিয়ম মেনেই এগিয়ে চলে জীবন। প্রতিটি মানুষ জন্মের পর থেকেই ধাপে থাকে মৃত্যুর পথে এগিয়ে চলে। কিন্তু এখনো এমন মানুষ পৃথিবীতে রয়েছেন, মৃত্যু যাদের ছুঁতেও পারেনা। তেমনই এক আশ্চর্য পুরুষ হলেন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা মহাশতা মুরাসি।

মুরাসির দাবি অনুযায়ী, ১৮৪ বছর ধরে পৃথিবীর উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। আজ তার সন্তান এমনকি নাতি-নাতনিরাও বেঁচে নেই। কিন্তু আশ্চর্যভাবে, অমর রয়েছেন মুরাসি। মুরাসির এই জীবন একদিকে যেমন আশীর্বাদ অপরদিকে অভিশাপের নামান্তর। তার কথায়, মৃত্যু তাকে ভুলে রয়েছে। মৃত্যুর বয়স পেরিয়ে গেলেও মৃত্যু হচ্ছে না তার, এখন তাই মরণের আশা ছেড়েই দিয়েছেন ১৮৪ বছরের এই বৃদ্ধ।

১৮৩৫ সালে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী শহর বেঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন মুরাসি। নিজের দীর্ঘ জীবন কালে বহু নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু দেখেছেন তিনি। ভেতর ভেতর ভেঙে পড়লেও এখনো মজবুত মুরাসি। তার অন্তিম ইচ্ছা, বিশ্বের সব থেকে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে গ্রিনিজ ওয়ার্ল্ড বুকে স্থান অর্জন করা। শেষ ১৯৭১ সালে চিকিৎসার প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। তবে সেই চিকিৎসকও এখন জীবিত নেই।

মুরসির অন্তিম ইচ্ছার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব। এ পর্যন্ত তার জন্মের কোনো প্রমান পত্র পাওয়া যায়নি। বর্তমানে, বিশ্বের সবথেকে প্রবীণতম ব্যক্তি হিসেবে গ্রিনিজ বুকে নাম তুলেছেন ফ্রান্সের জিয়ানে লুইস কালমেন্ট। ১৮৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন কালমেন্ট। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বেঁচে ১২২ বছরের দীর্ঘ জীবনের রেকর্ড গড়েছেন জিয়ানে লুইস কালমেন্ট। প্রয়োজনীয় নথির অভাবে গ্রিনিজ বুকে নাম তুলতে পারছেন না বিশ্বের সবথেকে প্রবীণতম বাসিন্দা মুরাসি।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন