কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপের সন্ধান! সুশান্ত মৃত্যু তদন্তে মাদককাণ্ড নিয়ে উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর রহস্য মামলার সাথে জড়িয়েছে ড্রাগ চক্র। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যেই বহু বলিউড সেলিব্রিটির সাথে ড্রাগের যোগ সূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে হয় ড্রাগ সেবনের সাথে, নয়তো ড্রাগ সরবরাহের সাথে জড়িত। রিয়া চক্রবর্তীকে জেরা করে ড্রাগের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করছে এনসিবি।

তদন্ত চলাকালীন এবার এক উদ্বেগজনক তথ্য পেলেন নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর কর্মকর্তারা। বলিউডের মাদক চক্রের বিস্তার গিয়ে পৌঁছলো সুদূর পাঞ্জাবের অমৃতসর এবং পাকিস্তানে। এনসিবির আধিকারিকেরা জানতে পেরেছেন অমৃতসর এবং পাকিস্তান থেকে কোকেন এবং অন্য নিষিদ্ধ মাদক এসে পৌঁছচ্ছে বলিউডে। রিয়া চক্রবর্তীর ফোনে ডিলিট হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পুনরুদ্ধার করে সম্প্রতি এমনই মারাত্মক তথ্য জানতে পেরেছেন আধিকারিকেরা।

নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে বেআইনিভাবে বলিউডের মাদক পাচার করা হয়। সেই মাদক সংগ্রহ করেন বলিউডের তাবড় তাবড় সেলিব্রেটিরা। ইতিমধ্যেই এমন বহু সেলিব্রিটির নাম জানতে পেরেছেন আধিকারিকেরা। তবে এখন তাদের নাম প্রকাশ করতে চাইছেনা এনসিবি। বর্তমানে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, বলিউডে কারা মাদক সাপ্লাই করেন এবং কারা তা জোগাড় করেন ইতিমধ্যেই সে সম্পর্কে সমস্ত তথ্য তাদের হাতে চলে এসেছে। কোকেন,হেরোইন, এমডিএম সহ একাধিক নিষিদ্ধ মাদক সেবার অথবা সরবরাহের সাথে যারা যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বলিউডে মাদক সাপ্লাইয়ারের তথ্য পেতে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলির সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানের রাজ্য পাঞ্জাব থেকে যে নিষিদ্ধ ড্রাগ বিদেশে রপ্তানি করা হয়, তার থেকে পাঞ্জাবের যে আয় হয়, সেই আয়ের সম্পূর্ণ টাকা ভারতে সন্ত্রাসবাদি কার্যকলাপ চালাতে ব্যয় করে পাকিস্তান। এনসিবির আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের একদম গোড়া অবধি পৌঁছাতে চান তারা।