বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে গঙ্গানদী থেকে উদ্ধার শিবলিঙ্গ, পুজো দিতে ব্যস্ত ভক্তরা

বর্তমানে আমাদের চারপাশে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায়, যেগুলি যে কোন সিনেমার স্ক্রিপ্ট কে হার মানিয়ে দেয়। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে বর্ধমানের পূর্বস্থলী থানার পাটুলি এলাকায়। সেখানে গঙ্গার ধারে উদ্ধার করা হয়েছে একটি শিবলিঙ্গ। রবিবার বিকেলের দিকে শিবলিঙ্গটি উদ্ধার করা হয় পূর্বস্থলী পাটুলি মহাজনপট্টি এলাকায়। সেখানে গঙ্গার ধারে গিয়েছিলেন এলাকার ব্যবসায়ী রবি বর্ধন নামে একজন মানুষ। তিনি প্রথম দেখতে পান শিবলিঙ্গটি। শিবলিঙ্গটি উল্টো ভাবে গঙ্গার ধারে পড়েছিল। তার সারা গায়ে লেগেছিল কাদা। এইভাবে শিবলিঙ্গটি পড়ে থাকতে দেখে ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষজন কে ডেকে পাঠান।

খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসে এলাকাবাসী। অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে ভিড় জমে যায়। স্থানীয় সকলে মিলে শিবলিঙ্গটি তুলে আনে। চারপাশে লেগে থাকা কাদা ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলা হয়। পরিষ্কার করার পর দেখা যায় শিবলিঙ্গ টির কিছুটা অংশ ভাঙ্গা। এরপরই সকলে মিলে স্থির করে যে, শিবলিঙ্গ টি প্রতিষ্ঠা করা হবে। এরপরই শুরু হয়ে যায় পূজা-অর্চনা। কাছে ছিল একটি কালী ঠাকুরের বেদি। সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় শিবলিঙ্গটি।

শিবলিঙ্গ কি প্রতিষ্ঠা করার পর শুরু হয় পূজা অর্চনা। আশেপাশে সমস্ত মানুষজন সেখানে এসে পুজো শুরু করে নিত্যদিন। শিবলিঙ্গ টিরুপুর ভক্তিভরে কেউ ঢালছেন দুধ, কেউ দিচ্ছেন মালা, কেউ আবার সকলের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করছেন। তবে কীভাবে এই এলাকায় শিবলিঙ্গটি এলো সেই সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই স্থানীয় বাসিন্দা পিন্টু ঘোষ, বাপি সাহাদের।

রবিবার বিকেল বেলা খবর শুনি তড়িঘড়ি ছুটে যান তারা ঘটনাস্থলে। সোমবার পুজো শুরু হবার সময় তারা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এই এলাকায় এর আগেও বেশকিছু দেবদেবীর মূর্তি পাওয়া গেছে। সেগুলিও কোথা থেকে এসেছে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা করতে পারে না। তবে প্রত্যেকবার ভক্তিভরে ঈশ্বরকে গ্রহণ করেন ভক্তরা। এই ভাবেই প্রতি বছর নিয়মিত পূজা-অর্চনা করতে থাকে সেখানকার মানুষেরা।