লিখতে পড়তে ভুলে যাচ্ছে খুদেরা, অতএব “বিধি” মেনে চালু স্কুল

গত এক বছর থেকে সমস্ত স্কুল একেবারেই বন্ধ, যার কারণে কচিকাঁচারা স্কুলের মুখ দেখতে পারছে না অনেকদিন থেকেই। টানা এত দিনের ছুটি হয়তো তাদের জীবনে প্রথম, বাইরে থেকে অনেকটা মজা লাগলো অভ্যন্তরীণ বিষয় বস্তু একেবারেই বিপরীত। করোনার সময় থেকেই স্কুল বন্ধ যার ফলে সমস্ত স্কুল অনলাইনের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। কিন্তু অনেকের বাড়িতেই স্মার্ট ফোন নেই এমনকি অনেকের মা বাবার কেবলমাত্র অক্ষর জ্ঞান রয়েছে। যার ফলে একেবারেই পড়াশোনা থেকে বিমুখ হয়ে যাচ্ছে পড়ুয়ারা, এমনকি অক্ষর পর্যন্ত ভুলে যাচ্ছে তারা। তাই পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাদের বাবা-মায়েরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে স্কুল খোলার অনুরোধ জানিয়েছিল। রাজ্য সরকার এখনও প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলের পড়ুয়াদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু অনুমতির আগেই প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন চালু করে দিয়েছে মেটিয়াবুরুজের বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল।

এই নিয়ে সেই স্কুলের প্রিন্সিপাল আসিফ আলী মির্জা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই স্কুলের অনেক পড়ুয়ারাই গরীব, যাদের বাড়িতে নেই স্মার্ট ফোন। এমনকি অনেকের বাড়িতে নেই পড়াশোনার পরিবেশ। তাই তারা স্কুলের উপরই নির্ভরশীল। বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সমস্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুটো ব্যাচ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ঠান্ডা মাথায় বিচার করলে দেখা যাবে, যদি এইটুকু পড়ানা না হয় তাহলে একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে পড়াশোনা।

কিন্তু এই খবর পেয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় একেবারেই খুশি নন, তিনি জানিয়েছেন এটি একটি নিয়মবিরুদ্ধ কাজ।সরকারের হয়তো পুরোপুরি বেসরকারি স্কুলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই ঠিকই, কিন্তু এই ব্যাপারে সমস্ত খোঁজখবর নেওয়া হবে। কিভাবে সরকারের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের কাজ করা হলো। এখন যদি কোন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে তার দায়িত্ব নেবে কে?

এদিকে অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী এর বিরোধিতা করলেও অনেকে এর পক্ষে কথা বলেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অমল মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন। যদি করোনা বিধি মেনে সমস্ত কাজকর্ম করা হয় তাহলে এই পঠন পাঠন ভালো। মোটকথা সরাসরি পঠন পাঠন এর বিকল্প কিছুই নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইন পঠন-পাঠনই ভরসা। কিন্তু সেই স্কুলে কি নিয়ম মেনে সবকিছু করা হচ্ছে? যদি হয় তাহলে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া উচিত।