যেকোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাছাই করা হয় ইঁদুর, জানেন কি এর পিছনে কি কারণ থাকতে পারে ?

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য কখনো কোনো মানুষকে বেছে নেওয়া হয় না। ভ্যাকসিন হোক কিংবা কোন ওষুধ, প্রথম কোন বৈজ্ঞানিক জিনিস ক্রয় করার জন্য বেছে নেওয়া হয় গিনিপিগ অথবা ইঁদুরকে। ইঁদুরের ওপর যে কোন ভ্যাকসিন এর প্রয়োগ করার পর সফলতা লাভ করলে তারপর তা প্রয়োগ করা হয় মানুষের উপর।কখনো কি চিন্তা করে দেখেছেন আপনি,সব সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কেন ইঁদুর কেই বেছে নেওয়া হয়? অন্য প্রাণীকে না বেছে কেন প্রাধান্য দেওয়া হয় ইঁদুরকে? জেনে নিন তার কারণগুলো,

ইঁদুর হল একটি ছোট প্রাণী। খুব সহজে এদেরকে পরিবহন করা যায়। এছাড়া যে কোনো পরীক্ষায় নিজের শরীরে গ্রহণ করতে পারে। এটি পরিচালনা করা খুব সহজ। ইঁদুরের জায়গায় কোন হাতি অথবা জিরাফকে যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে তার ক্ষেত্রে বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় একজন মানুষকে। এটি ইঁদুরকে একটি ইনজেকশন দেওয়াটা যতটা সোজা, এটি জিরাফ অথবা হাতিকে ইঞ্জেকশন দেয়াটা যতটা সোজা নয় তা বলাই বাহুল্য।

এছাড়া ইঁদুর হল তুলনামূলকভাবে অতি নিরীহ প্রাণী। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় এই প্রাণীটিকে বিভিন্ন অবস্থায় চাপ দেওয়া হয়, যা এই প্রাণীটির পক্ষে খুব বিরক্তিকর এবং উত্তেজক। সে ক্ষেত্রে যদি ইঁদুরকে আপনি খুব বিরক্ত করেন তাহলে সে রেগে গিয়ে আপনার আমাকে কামড়ে দেবে। এর থেকে বেশি সে কিছুই করবে না। তবে যদি ইঁদুরের পরিবর্তে আপনি সিংহকে একটি ধারালো কিছু দিয়ে খোঁচা দেন, তাহলে নিশ্চয়ই আপনাকে শুধু কামড় দিয়ে সে ছেড়ে দেবে না।

অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় প্রজনন ক্ষমতা দুর্দান্ত।এরা খুব দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করতে পারে।খুব কম সময়ে এরা বেঁচে থাকে কারণ এরা নতুন প্রজন্মের জন্য স্থান ছেড়ে দেয়। এ কোন সময়ের মধ্যে বিভিন্ন জেনারেশনে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো,মানুষের ক্ষেত্রে অনেকাংশে ইন্দুরের বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়।মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সঙ্গে ইঁদুরের অঙ্গের অথবা তন্ত্রের মিল পাওয়া যায়। এই কারণেই মানুষের শরীরে বিভিন্ন প্রকার ওষুধের প্রয়োগ করার আগে তা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন

/p>