ভারতের নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি

শনিবার জাতীয় শিক্ষা নীতি সম্পর্কিত একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এই নতুন শিক্ষানীতি সম্পর্কে বেশ আশাবাদী রাষ্ট্রপতি। এর আগেও জাতীয় শিক্ষা সম্পর্কে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। এদিনের অনুষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দেশের সর্বস্তরের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মতামত নিয়ে, প্রত্যেকের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তারপরে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি গঠন করা হয়েছে।

এদিনের ভাষণ মঞ্চে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে, সারা দেশের প্রায় ৬৭৫ টি জেলার সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি স্থানীয় প্রশাসন, আড়াই লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতের মতামত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই লক্ষের বেশি মতামত নেওয়া হয়েছিল। সকলের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণ করা হয়। তারপরেই জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,এর আগেও রাষ্ট্রপতি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং দেশের প্রত্যেক রাজ্য সরকারের মিলিত প্রচেষ্টার ফল হল আজকের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০। শীঘ্রই এই নীতিকে দেশে কার্যকর করা হবে। তিনি আরো বলেছেন, নতুন শিক্ষানীতি চালু করার প্রসঙ্গে দেশে ন্যাশনাল এডুকেশন এন্ড টেকনোলজি ফোরাম তৈরি করা হবে। দেশের বিভিন্ন রাজ্য এই নীতি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশের প্রতিটি রাজ্যের রাজ্যপাল এবং শিক্ষা মন্ত্রী নতুন শিক্ষা নীতি কার্যকর করা প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলেই দাবি করেছেন রাষ্ট্রপতি।

উল্লেখ্য, নতুন শিক্ষানীতি প্রসঙ্গে বেশ উৎসাহী দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর আশা, নতুন শিক্ষানীতি দেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়ন ঘটাবে। যার মূল লক্ষ্য শুধু পুঁথিগত জ্ঞান প্রদান নয়, শিক্ষার্থীরা যাতে পরবর্তী জীবনে কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারেন, সেই পথ দেখাবে জাতীয় শিক্ষানীতি। তিনি আরো বলেছেন, নতুন শিক্ষানীতি পড়ুয়াদের উপর পড়াশোনার ভার চাপানোর পরিপন্থী। বরং আজকের পড়ুয়াদের ভবিষ্যতে কর্মজীবনে সাফল্য লাভের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।