মাঝে মাঝেই হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে? মারাত্মক রোগের লক্ষণ হতে পারে!

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন জাতির হাত-পা বা শরীরের কোন অংশ অবশ হয়ে গেছে বলে মনে হয়। পানিতে হাত পা অবশ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে গুরুত্ব দেন না। তাই হঠাৎ করেই তারা পড়তে পারেন বড় ধরনের বিপদে। হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ রোগের লক্ষণ নয়। সমস্যা জানিয়ে দেয় যে আপনার জীবনে আসতে চলেছে বড় ধরনের কোনো অসুখ।

বাহবা কব্জির কোন একটি স্নায়ু বা স্নায়ুগুচ্ছ যদি কোন কারণে সংকুচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে অনেক সময় হাত অবশ হওয়ার অনুভূতি হয়। ডায়াবেটিসের কারণে পেরিফেরাল স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া, আঘাতের হওয়া, সংক্রমণ এবং বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শের ফলে আমাদের হাত অবশ হবার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি পায়ের পাতা অবশ হয়েছে এবং তাতে জ্বালা করছে এবং মনে হচ্ছে কেউ যেনো সুঁই দিয়ে জায়গাটাকে খোঁচাচ্ছে। এইরকম অনুভূতির কারণ হল মেরুদণ্ডের নিচের অংশে স্নায়ু মূলে যন্ত্রণা হওয়া। এই অনুভূতিগুলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আমার হাতের উপর দীর্ঘক্ষন ঘুমান বা পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকেন অথবা নড়াচড়া না করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন তবে হাত বা পা অবশ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তবে এমন অদ্ভুত অনুভূতি যদি প্রায়ই হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। না হলে আপনি ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন। ছোটন জেনে নেয়া যাক হাত-পা অবশ হওয়ার অনুভূতি কোন কোন মারাত্মক রোগের লক্ষণ হয়? –

১) বর্তমান সময় বেশিরভাগ মানুষই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগের একটি সাধারণ লক্ষণ হলো পেরিফেরাল স্নায়ু। এর ফলে পায়ের পাতা অবশ হয়ে যাওয়ার অনুভব হয় এবং তা আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে থাকে।

২) সিস্টেমিক ডিজিজের জন্যেও অনেক সময় হাত পা অবশ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি ঘটে।সিস্টেমিক ডিজিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল কিডনি রোগ, ভাস্কুলার ডিজিজ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার যা স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে ইত্যাদি রোগগুলো সিস্টেমিক ডিজিজের অন্তর্ভুক্ত।

৩) যদি হালকা ভাবে হাত পা পা অবশ থাকে তাহলে এটিকে ফেলে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ অনেক সময় দেখা যায় একটি মাল্টিপল ক্লোরোসিস এ পরিণত হয়ে যায়। এই সমস্যার জন্য স্নায়ুতন্ত্রের মায়োলিন সিথ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ইতালি শরীরের ভারসাম্য রক্ষার্থে সমস্যা হয়।

৪) পায়ের পাতার পেছনের অংশে গোড়ালির ভেতরের দিকে টানেল সিনড্রোম থাকে। গোড়ালির ভেতরের টিবিয়াল স্নায়ুর সংকোচনের ফলে হয় অসারতা। ডাক্তার না দেখালে এই সমস্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

৫) শরীরের যেকোনো অংশে আঘাতের কারণে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতস্থানে তীব্র যন্ত্রণা ও জ্বলুনি অনুভব হয়।

৬) হৃদপিণ্ড যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে পারে না তখন স্ট্রোক হয়ে যায়। রক্তনালী গুলো ব্লক হলে স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকের আগে অনেক সময় বাম হাতে থেকে তালু পর্যন্ত অবশ হতে অনুভব করা যায়।

৭) লাইম ডিজিজের জন্য হাত পা অবশ হয়ে যায়। লাইম ডিজিজ হল একটি পতঙ্গবাহিত ইনফ্লামেটরি ডিজিজ যা দ্রুতগতিতে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো ক্লান্তি, জ্বর, পেশী ও জয়েন্টের ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া। এই অসুখ হলে খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় চিকিৎসা যদি না করানো হয় তাহলে স্নায়ুর জটিলতা অবশ্যম্ভাবী।

৮) ফাইব্রোমায়ালজিয়া সকলে হাত পা অবশ হওয়ার অনুভূতি হয়। এই রোগটি হলো মস্তিষ্কের একটি রোগ। এই রোগের লক্ষণ হলো পেশীতে ব্যথা, স্মৃতির সমস্যা এবং মেজাজ পরিবর্তন, হাত এবং পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতোও সমস্যা দেখা যায়।