আন্টার্কটিকা জুড়ে রহস্যজনক দাগ, কিছু কি হতে চলেছে পৃথিবীর বুকে?

বরফ সাম্রাজ্য আন্টার্টিকা! পৃথিবীর দুর্গমতম স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম এই আন্টার্টিকা মহাদেশ। চিরতুষারাবৃত এই মহাদেশের বেশ কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা সর্বদাই -৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে থাকে। কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সেই স্থানে থাকা সম্ভব নয়। ফলে সভ্যতার থেকে অনেক দূরে এই মহাদেশ। তবে উপগ্রহগুলি অবশ্য সারা পৃথিবীর মতো এই মহাদেশের উপরেও অবিরাম নজর রাখছে। উপগ্রহ চিত্র থেকেই এই মহাদেশ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য লোকসমাজের সামনে আসে।

সেরকমই একটি তথ্যচিত্র সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক মহলের রাতের ঘুম উড়িয়েছে। বরফাবৃত আন্টার্টিকার প্রায় সাত মাইল এলাকাজুড়ে এক অদ্ভুত দাগ উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে! দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো ভারী জিনিসকে যেন বরফের উপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন চিত্র এর আগে কখনো ধরা পড়েনি। হঠাৎ করে পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম অঞ্চলে কি ঘটনা ঘটে গেল?

এই চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেতেই নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল জল্পনা শুরু হয়ে যায়। কি কারণে বরফের উপর এমন আশ্চর্য জনক দাগ পড়লো, সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল তরজা চলছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক জো পাপ্পালার্দো মনে করেছেন সম্ভবত আন্টার্টিকার উপরে কিছু ভেঙে পড়েছে। সেই বস্তুটিই দ্রুত বেগে বরফের উপর দিয়ে গড়িয়ে পড়েছে। তিনি মূলত বিমান দুর্ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ২৩৭ জন যাত্রী নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ফ্লাইট ৯০১ বিমান আন্টার্টিকাতে ভেঙে পড়ে। যাত্রীদের মধ্যে কেউই বেঁচে ছিলেন না। তবে বিজ্ঞানী মার্ক ডিঅ্যান্টনি জানাচ্ছেন বিমান দুর্ঘটনার কোনো নিদর্শন সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। শেষমেষ বিজ্ঞানী ড. কেলি ব্রান্ট নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে চারিদিক খতিয়ে দেখে জানালেন ভারি এক হিমবাহ বরফের উপর দিয়ে গড়িয়ে নিচে নেমে গিয়েছে, যে কারণে এমন দাগ পড়েছে বরফের গায়ে। কাজেই দুশ্চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই।