মা দুর্গা চললেন বিদেশ, ক’রোনার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ভিনদেশে পাড়ি দিচ্ছেন উমা

ইতিমধ্যেই বর্ষার কালো মেঘকে কেটে গিয়ে আকাশে দেখা যাচ্ছে শরতের সাদা মেঘের ভেলা। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে মায়ের আগমনী সুর। চলতি মাসেই মহালায়া, তা ঠিক এক মাস পরে দেবীর আগমন হবে মর্তে।মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে মহামারী করোনা।তাই সেই সব দিকে আর না চিন্তা ভাবনা করে সকলে উমাকে ঘরে আনার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই কার্তিক গণেশ লক্ষী এবং সরস্বতীকে নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিতে শুরু করেছে মা দুর্গা। গতবারের তুলনায় অনেকটাই কম,তবু এ বছর ১০ থেকে ১২ টি ফাইবারের দুর্গা প্রতিমা ইতিমধ্যেই বিদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছে।মহামারীর কারণে অনেক অর্ডার দিয়ে ও পরবর্তীকালে চুক্তি বাতিল করে দিচ্ছে বলে জানাচ্ছে কুমোরটুলি মৃৎ শিল্প সংস্কৃতি সমিতি। কুমোরটুলি সংগঠনের যুগ্ম সচিব রণজিৎ সরকার জানিয়েছেন যে, চলতি বছরে খুবই খারাপ অবস্থা মৃৎশিল্পীদের।

আগের বছরে এই সময়ে কুমোরটুলিতে সাজ সাজ রব পড়ে যেত। কিন্তু সেই অবস্থা এখন আর নেই। তবুও আশার খবর হলো,কিছু সংখ্যক প্রতিমা ইতিমধ্যেই পাড়ি দিয়ে দিয়েছে বিদেশে।দুর্গাপূজাতে বাংলার বাইরে বিশেষত বিদেশে ফাইবারের দুর্গা প্রতিমা পাঠানো হয়। ফাইবারের মূর্তি বানানোর কারণ হলো এই মুহূর্তে বহু বছর ধরে ব্যবহার করা সম্ভব। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলেও সহজেই ভেঙে যাবে না।কুমোরটুলির মত বেহালা শহরে বিভিন্ন প্রান্তের স্টুডিও থেকে ইতিমধ্যেই মা দুর্গার প্রতিমা বিদেশে পাড়ি দিয়ে দিয়েছে।দুর্গা প্রতিমা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বেহালার দেব এক্সপার্ট সংস্থার পক্ষ থেকে দেব রঞ্জন দে বলেছেন যে, বিদেশে জলে প্রতিমা বিসর্জন প্রায় নিষেধ হয়ে গেছে।

সেই কারণেই কিছু বছর ধরে ফাইবারের মূর্তি চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। এছাড়াও এই প্রতিমা গুলি অনেক হালকা এবং মজবুত হয়। সাধারণত আকাশপথে অধিকাংশ প্রতিমা পাঠানো হয় বিদেশে। এছাড়াও চলে পথে আমরা বিদেশে বহুবার প্রতিমা পাঠিয়েছি।আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়াতে ফাইবারের পাঁচ চালা দূর্গা মূর্তির পাঠাচ্ছি এবার। বাংলা থেকে দুর্গা প্রতিমা নিউইয়র্ক,ওয়াশিংটন,লস অ্যাঞ্জেলেস, সুইজারল্যান্ড, কানাডা,মেস্কিকো সমেত পৃথিবীর বহু জায়গায় দুর্গা প্রতিমা পাঠানো হয়।দেব রঞ্জন বাবুর মতে,”মূর্তির আকার অনুযায়ী দাম ঠিক করা হয়। ফাইবারের দুর্গার সাজ এর ক্ষেত্রেও চুল থেকে শুরু করে মায়ের শাড়ি এবং অলংকার সবকিছুই ফাইবারের হয়। বিদেশি ক্রেতা বছরের পর বছর একই ঠাকুর পুজো করলে ও রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা একেবারেই থাকে না।