কিসের উপর জোর দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে গ্রিনজোন ও রেডজোন, জেনে নিন সহজ ভাষায়

গোটা দেশ জুড়ে করোনা আতঙ্ক। করোনা ভাইরাসে সংক্রমন ক্রমশ বেড়েই চলছে, বাড়ছে মৃত্যু। করোনা মোকাবিলার জন্য ১৭ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ অনুযায়ী গত ১৫ এপ্রিল জেলাগুলিকে মোট তিনটি ভাগে ভাগ করে দিয়েছে কেন্দ্র। রেড, অরেঞ্জ ও গ্রিন জোনে ভাগ করা হয়েছে। রেড, গ্রিন এবং অরেঞ্জ জোনের মধ্যে ফারক কোথায় জেনে নিন।

যেসব জেলাগুলিতে করোনা আক্রান্তের হার অত্যন্ত বেশি, অর্থাত্‍‌ হটস্পট বা কন্টেনমেন্ট এলাকা যেখানে বেশি, সেই জেলাগুলিকেই রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বোঝাতেই রেড জোন হিসেব চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রেড জোনগুলিতে প্রশাসনক অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করতে হয়। রেড জোন এলাকাগুলিতে সামান্য গাফিলতি হলেই তার ফল ভয়ংকর হতে পারে।

অরেঞ্জ জানে সংক্রমণ আছে কিন্তু তার হার রেড জোনের তুলনায় অনেক কম। যেসব জেলা হটস্পট নয়, সেই জেলাগুলিকে অরেঞ্জ জোনের মধ্যে ফেলা হয়েছে। রেড জোনে সংক্রমণ কমে এলে, তা অরেঞ্জ জোনে চলে আসবে। অন্যদিকে গ্রিন জোনে সংক্রমণ দেখা দিলে অরেঞ্জ চলে আসবে। গ্রীন জোন হল সংক্রমণ-মুক্ত বা করোনা ফ্রি জেলা।

এই জোনে করোনা সে ভাবে প্রভাব বিস্তার করেনি। ১৪ দিনের মধ্যে কোনও জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্তের সন্ধান না মিললে, সেই জেলা করোনামুক্ত ধরে নেওয়া হয়। তবে বিপন্মুক্ত বা ঝুঁকিমুক্ত কখনোই নয়। সামান্য গাফিলতি হলেই গ্রিন জোন অরেঞ্জ জোনে ঠেলে দিতে পারে।

গত মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছিলেন, দেশের ৮০ জেলা থেকে বিগত ৭ দিনে করোনা আক্রান্তের খবর নেই। এর মধ্যে ৪৭ জেলায় বিগত ১৪ দিনে একটিও করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি, ওই ৪৭ জেলা গ্রিন জোন। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী করোনা সংক্রমণের দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেড জোনে রয়েছে ৪ টি জেলা।

সেগুলি হল কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পুর্ব মেদিনীপুর। অরেঞ্জ জোনে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান, মালদা, মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং। বাকি জেলাগুলি গ্রিন জোনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন