চাল-ডাল-তেল-পেঁয়াজ-এর দাম দেড় গুণ বাড়লে তবেই সরকারি হস্তক্ষেপ, জারি নয়া নির্দেশিকা

নতুন কৃষি বিল ২০২০ এর পাশাপাশি সম্প্রতি রাজ্যসভায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধনী বিল পাশ করেছে কেন্দ্র। যা নিয়ে বিরোধীদের বিরোধিতার শেষ নেই। সংসদের বিরোধী সাংসদেরা তো বটেই, কেন্দ্র প্রস্তাবিত নতুন দু’টি বিল নিয়ে দেশজুড়ে কৃষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো জরুরী অবস্থা সৃষ্টি এবং দেশীয় পণ্যের অত্যধিক পরিমাণে মূল্যবৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত যতখুশি খাদ্যশস্য মজুত রাখা যাবে।

সংশোধিত নতুন বিল অনুসারে, চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, গম, ভোজ্যতেল, তৈলবীজের মতো খাদ্য সামগ্রীকে অত্যাবশ্যক পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এবার থেকে, কর্পোরেট সংস্থাগুলি এই খাদ্য সামগ্রী গুলিকে যত খুশি মজুত করে রাখতে পারবে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো জরুরি অবস্থা এবং অত্যধিক মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া সরকার পণ্য মজুতে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না।

শুধু তাই নয়, পচনশীল খাদ্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে দ্বিগুণ এবং পচনশীল ছাড়া অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর দাম দেড় গুণ বৃদ্ধি পেলে, তবেই মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে, গত ১২ মাসের গড় বাজারদর ও গত পাঁচ বছরের গড় বাজারদরের মধ্যে যেটি কম হবে, সেই দামটিকেই স্বাভাবিক দাম হিসেবে গণ্য করবে কেন্দ্র। উল্লেখ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী এবং সবজি-আনাজ যাতে কৃষকদের থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারে কর্পোরেট সংস্থাগুলি, সেই উদ্দেশ্যেই এই নতুন দুটি বিল এনেছে কেন্দ্র।

এই বিলটি আইনে পরিণত হলে এবার থেকে রিলায়্যান্স রিটেল, আদানি উইলমার, আইটিসি-র মতো সংস্থাগুলি কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনবে, ফলে কৃষি ক্ষেত্রে লগ্নি বাড়াবে। এই সংস্থাগুলি এবার থেকে নিজেদের হিমঘর, গুদাম ঘরে খাদ্য সামগ্রী মজুত করতে পারবে। এতদিন চাষিরা কেবল কৃষক মান্ডিতে নিজেদের ফসল বেচতে পারতেন। এবার থেকে তারা দেশের যেকোন প্রান্তে ফসল বিক্রি করতে পারবেন। মাঝে থাকবে না কোন দালাল চক্র। তবে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত এই বিল নিয়ে খুশি নন স্বয়ং কৃষকেরাই।

বিরোধীদের দাবি, কর্পোরেট সংস্থাগুলির ফসল কেনার ক্ষেত্রেও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ধার্য করুক কেন্দ্র। কিন্তু বিরোধীদের কোনো দাবিই মানতে নারাজ কেন্দ্র সরকার। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর দেশে কালোবাজার চক্র এবং বেআইনিভাবে খাদ্য মজুত রুখতে ১৯৫৫-সালে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন জারি করে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। আইন মোতাবেক, যেকোনো পণ্যকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তকমা দিয়ে তার উৎপাদন, সরবরাহ, বণ্টন এবং মজুতদারীতে সরকার তার নিজের নিয়ন্ত্রন রাখতে পারতো। কিন্তু এবার থেকে সেই নিয়মে বদল আসতে চলেছে।