NRC-তে একজনকেও তাড়াতে দেব না বাংলা থেকে, হুঙ্কার ছাড়লেন কল্যাণ

এনআরসি তথা কেন্দ্রের প্রণীত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখনো অব্যাহত। বিজেপির দাবি, বাংলাদেশী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এই আইন বলে দেশ থেকে তাড়ানো হবে! অপরপক্ষে রাজ্য শাসকদলের পাল্টা হুঁশিয়ারি, তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলায় এনআরসি চালু করতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ এনআরসি নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় শাসক দলের মধ্যে রীতিমতো জোর সংঘাত বেঁধেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্য শাসকদলের সকল নেতাকর্মীই জোটবদ্ধ হয়ে এনআরসির বিরুদ্ধে সওয়াল করেছেন। সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও সেই একই সুর শোনা গেল। “হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, বাংলায় সকলেই সমান। সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে এই বাংলায় থাকবেন। বিজেপি এখানে মানুষে-মানুষে ভাগ করতে পারবে না।”, এমনটাই মন্তব্য করেছেন তৃণমূলীয় সাংসদ।

বিজেপি বাহিনীকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেছেন, “এনআরসি করে বাংলা থেকে একটা মানুষকেও তাড়াতে দেবো না!” তিনি আরও বলেছেন, “কট্টর হিন্দু পন্থী বিজেপির কাছ থেকে আমি হিন্দু ধর্ম শিখবো না। আজ থেকে ৫০ বছর আগে আমার পৈতা হয়েছে। প্রতিদিন গায়ত্রী মন্ত্র জপ করি। শিবের মাথায় জল ঢালি, কালী পূজা করি। দেবতার মন্ত্র জপ করি, চণ্ডীপাঠ না করা পর্যন্ত এক গ্লাস জলও খাই না।”

এ দিন তিনি বলেন, “রাতে বাড়ি ফিরেও আগে ঠাকুরের পূজা করে তবে খাবার খাই। তাই বিজেপি আমাকে হিন্দুধর্ম শেখাতে এসো না। আরএসএস বা কট্টরপন্থী হিন্দুবাদীদের কাছ থেকে আমার হিন্দু ধর্ম শেখার প্রয়োজনীয়তা নেই।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রবিবার হাওড়ার জগতবল্লভপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের তরফ থেকে আয়োজিত কৃষক বিরোধী কৃষি বিল এবং কেন্দ্রীয় জনবিরোধী নীতি সম্পর্কে প্রতিবাদ সভার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।