মরণ তার ছিলই না, ২ বছর আগে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েও উদ্ধার হলেন জীবিত অবস্থায়, দেখুন বিস্ময়কর ভিডিও

এভাবেও ফিরে আসা যায়! ভগবানের অশেষ কৃপা থাকলে মাঝ সমুদ্র থেকেও বেঁচে ফেরা সম্ভব। তাও এক বা দুদিন নয়, টানা দু’বছর পর। ঘটনাটি ঘটেছে কলম্বিয়ায়। সংসারের অশান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে এক মহিলা দু’বছর আগে মাঝ সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। পারিবারিক, অর্থনৈতিক সবদিক দিয়েই অশান্তি ভোগ করতে হচ্ছিল তাকে। শেষমেষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। তাই মাঝ সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে বসেন। এই পথ দেখতে দেখতে দু বছর কেটে গেছে।

মাঝে কি হয়েছে সে সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না তিনি। দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর কলম্বিয়ার মৎস্যজীবীর দল মাঝ সমুদ্রে ওই মহিলাকে ভেসে থাকতে দেখেন। এরপর আর সময় নষ্ট না করে, দ্রুত তৎপরতার সঙ্গে তাকে জল থেকে উদ্ধার করেন তারা। মহিলার কাছ থেকে খোঁজ খবর নিয়ে তার বোনের সন্ধান পান উদ্ধারকারী দল। এরপর তারাই উদ্যোগ নিয়ে মহিলাকে তার পরিবারের কাছে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন। আপাতত ওই মহিলা তার বোনের কাছেই রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

মহিলা জানিয়েছেন, প্রায় কুড়ি বছরের বিবাহিত জীবনে অনেক অশান্তি ভোগ করতে হয়েছে তাকে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে আরম্ভ করে মারধোর পর্যন্ত, কোনো কিছুই বাদ যায়নি। তবে দিনের-পর-দিন মার খেতে খেতে একসময় জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে তার। তখনই জীবনের চরম সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেন তিনি। প্রায় দুই বছর আগে মাঝ সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে সংসার জীবন থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন তিনি।

মহিলা এও জানিয়েছেন, তার সংসার অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তার উপর সংসার জীবন থেকে পাওনা বলতে দুটি সন্তান। তাই শত অত্যাচারের মধ্যেও স্বামীকে ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেননি তিনি। তবে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন একবার। ফলস্বরূপ পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হন ওই মহিলার স্বামী। এরপর অবশ্য জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে মেরে তার হাত-পা ভেঙে দেন। এরপর আর সহ্য করতে পারেননি নির্যাতিতা মহিলা। সমুদ্রের গভীর জলেই মুক্তির স্বাদ খুঁজে পেতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে, ভগবানের কৃপায় দুই বছর পরেও বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছেন তিনি। নেটিজেনদের কাছে যা অত্যন্ত বিস্ময়কর ঘটনা।