পয়লা বৈশাখের সাথে হালখাতার কোনো সম্পর্ক নেই! জেনে নিন

পহেলা বৈশাখের সঙ্গে হালখাতা শব্দটি যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। পহেলা বৈশাখ হলো বাঙালিদের কাছে নববর্ষ। এই দিন পুরনো সমস্ত হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে আরো নতুন করে নতুন বছরের খাতায় হিসেবে লেখা হয়। জীবনটা আরো একবার নতুন করে সাজিয়ে ফেলার প্রয়াস করে সকলে। তাই হালখাতায় ভগবানের নাম স্মরণ করে নতুনভাবে হিসাব নিকাশ করে ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু ইতিহাস কিন্তু একেবারেই অন্য কথা বলছে। কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে লিখেছিলেন যে, খ্রিস্ট মতে নববর্ষ অতি মনোহর। সেই সময়ে বাংলা নববর্ষকে নিয়ে এত আনন্দ দেখতে পাওয়া যেত না। বাঙালিরা খুব সাদামাটা ভাবি কয়েকটি পুজো করতো। তবে তার থেকে বেশী আনন্দ করতে ইংরেজি নিউ ইয়ারে। বাঙালি তার পুরনো বছরটা খুব সাদামাটাভাবেই বিদায় দেন। শুধুমাত্র নতুন খাতা ওয়ালার মানুষরাই নতুন বছরকে মনে রাখেন। এই লেখা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে হালখাতার কথা বলা হচ্ছে। তবে নববর্ষ উদযাপনে যে অতীতকাল থেকে হালখাতা উদযাপনে তেমন তোড়জোড় ছিল না তাও কিন্তু স্পষ্ট।

এই হালখাতার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে নববর্ষের যোগাযোগ হয়েছে। মানুষ যখন লাঙ্গলের ব্যবহার শিখল, তখন এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করলো। শুরু হলো দ্রব্যের বিনিময় প্রথা। তখন তারা নিজেদের মতো করে একটি হিসাব লিখে রাখত খাতায়। সেই খাতাটিকে বলা হতো হালখাতা। হাল শব্দটি এসেছে সংস্কৃত এবং ফরাসি ভাষা থেকে। ফরাসি শব্দে হাল কথাটির অর্থ হল নতুন। সংস্কৃত ভাষায় হাল কথাটির অর্থ হলো লাঙ্গল। দুটি শব্দই হালখাতার ক্ষেত্রে একেবারেই যথাযোগ্য।

প্রাচীন হালখাতার অনুকরণে সম্রাট আকবর বকেয়া রাজস্ব আদায়ের অনুষ্ঠান পুণ্যাহ চালু করেছিলেন। মনে করা হয়েছে সম্রাট আকবর এই ভারতবর্ষে পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন প্রথম। কিন্তু তিনি রাজস্ব আদায় করার জন্য এই হালখাতা চালু করেছিলেন। একি নিয়ম মেনে বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খান পুণ্যাহ পালন করতেন।

\সেই সময় বহু জমিদাররা খাজনা দিতে আসেন তার কাছে। পরবর্তী সময়ে সেই খাতা হালখাতা তে পরিবর্তিত হয়ে যায়। সেই অর্থে দেখতে গেলে হালখাতা মূলত ছিল রাজস্ব আদায়ের জন্য একটি খাতা। নববর্ষের দিনে এই খাতা নতুন করে লেখা হতো। নববর্ষের দিন থেকে নতুন বছর ধরা হয়। তখন থেকেই পাজি গণনা শুরু করা হয়।

বর্তমানকালে এই দিন দোকানে দোকানে পুজো করা হয়। নতুন বছরের শুরু হয় সেইদিন। তবে হালখাতার সঙ্গে পহেলা বৈশাখের কোন রকম সম্পর্ক ছিল না। মানুষের সঙ্গে হালখাতার প্রথম পরিচয় বিনিময় প্রথার মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল। সেই সময় পহেলা বৈশাখের কোনরকম চল ছিল না।