বন্যপ্রাণী মোকাবিলায় ড্রোন-নাইট ভিশন দূরবীন ও জিপিএস পেলো বনকর্মীরা

উত্তরবঙ্গে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীদের সংঘাত নতুন কোনো ঘটনা নয়। ঘন অরণ্যবহুল অংশে বসবাসকারী মানুষের ঘর গৃহস্থালীতে প্রায়শই বিষাক্ত সাপ, হিংস্র বাঘ, উন্মত্ত হাতি আক্রমণ চালায়। বন দপ্তরের জোর প্রচারে অবশ্য উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ বন্যপ্রাণী সম্পর্কে অনেকখানি সচেতন হয়েছেন। এমতাবস্থায় মানুষের হাতে বন্যপ্রাণ হত্যার মত ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবুও, বন দপ্তরের কর্মীদের প্রায়শই উপযুক্ত সরঞ্জামের অভাবে বন্য প্রাণীদের সামনে সমস্যায় পড়তে হয়।

এই সমস্যা দূর কিভাবে করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে রবিবার গরুমারায় বন দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ারেন বিনোদ কুমার যাদব, বন দপ্তরের নর্দান সার্কেলের মুখ্য বন পাল রাজেন্দ্র জাখরসহ বন দপ্তরের উচ্চ আধিকারিকরা এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন দপ্তরের কর্মীদের উন্নত মানের সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।

আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড র‍্যাপিড রেসপন্স টিম নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর জন্য বন দপ্তরের কর্মীদের ড্রোন, জিপিএস, নাইট ভিশন বাইনোকুলার, নাইট ভিশন ক্যামেরাসহ একাধিক সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। বনদপ্তরের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ারেন বিনোদ কুমার যাদব জানালেন, মাল ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াড, বাগডোগরা এলিফ্যান্ট স্কোয়াডসহ মোট সাতটি রেঞ্জের বনকর্মীরা এই সরঞ্জাম পাবেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, এর জন্য জাপানের একটি সংস্থার থেকে আর্থিক সাহায্য নেওয়া হয়েছে। বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানাচ্ছেন পরিবেশ প্রেমীরা। এতদিন বনকর্মীদের মান্ধাতার আমলের বন্দুক দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হতো। অত্যাধুনিক সরঞ্জামের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই তারা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এতদিনে তাদের সেই দাবি পূরণ হলো।