টিকা নিয়ে অযথা তৈরি হচ্ছে ভয়, দেখানো হচ্ছে কুসংস্কারের ভয়, তবে কি দায়ী আপনি না সরকার?

গতবছর করোনা মহামারী বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল। গোটা বিশ্ব জুড়ে প্রচুর সংক্রমণ এবং মৃত্যু বাড়ছিল। দিনের-পর-দিন মানুষকে কাটাতে হয়েছে চার দেয়ালের ভেতরে । হারিয়ে যেতে বসেছিল মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। গোটা বিশ্ববাসী অপেক্ষা করছে এই রোগকে হারানোর অস্ত্র। দিনের পর দিন ধরে প্রত্যেকটি দেশে ভ্যাকসিন তৈরি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাধারন মানুষদের একটাই অপেক্ষা ছিল করোনা ভ্যাকসিন ফলে মানুষ তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ আবার ফিরে পেত। এমনি সময়ে আমাদের দেশে যখন ভ্যাকসিন তৈরি হলো,এবং ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলো স্বাভাবিকভাবেই ভ্যাকসিন কিরে আবার তৈরি হলো নানান রকমের কথা।

ভ্যাকসিনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা রকম সংস্কার এবং কুসংস্কার নিয়ে ভয়ের কথা। শুধুমাত্র করোণা ভ্যাকসিনকে কেন্দ্র করে এই ভয় তৈরি হয়নি, এই ভয়ের পিছনে অতীতের মহামারীর ভ্যাকসিনের কথা ভেবেই তৈরি হয়েছে। করোনা প্রতিষেধক সম্পর্কে কেউ কেউ জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত দেখা যাবে যে এই প্রতিষেধকটি সম্পূর্ণভাবে সঠিক কাজ করছে তারপরই সাধারণ মানুষরা এই টিকাটি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে। তবে এটাও সত্যি যে যেকোনো প্রতিশোধক উ সকলের উপর সমান কাজ করে না।

যখন ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিষেধক তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ে ৫০% মানুষের ওপর প্রয়োগ করার পরেই এই রোগটি কমানো গেছিল এবং একই সমস্যা দেখা গিয়েছিল পোলিও ভ্যাকসিনের সময়। পোলিও টিকা যখন প্রচলিত হয়েছিল সেই সময় ভয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, বলা হয়েছিল যে পোলিও টিকা নিলে পরে পুরুষরা পুরুষত্ব হারাবে এবং জন্মনিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রেও বাধা আসবে। পরে যদিও এই সমস্যাটি সমাধান করা গিয়েছিল। তবে কোন ভ্যাকসিন যখন প্রথম তৈরি হয় তখন সে বিষয়ে অনেকেরই সন্দেহ থাকে প্রশ্ন থাকে।

সাধারণভাবে ভ্যাকসিন নিয়ে যখন কোনো রকম ভয় ভীতির সৃষ্টি হয় তখন সেটা অবশ্যই রাজনীতিক এবং ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শুধু সাধারণ মানুষের ভয়ের ব্যাপার নয়, বিশেষজ্ঞদের মনেও এই ভ্যাকসিন নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন ছিল প্রথমথেকেই। স্বাভাবিকভাবে করোনা রোগের মত একদমই একটি অচেনা রোগের ভ্যাকসিন তৈরি করা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থাকে উপরন্তু যখন চিকিৎসকের একাংশ এই টিকা নিতে অস্বীকার করে তখন স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হতে পারে সাধারণ মানুষের মনে।