করোনা নিয়ে ছেলেখেলা করলেই যাবজ্জীবন, করোনা রুখতে অভিনব পদক্ষেপ

করোনা নিয়ে ছেলেখেলা করলেই যাবজ্জীবন

চীন দেশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোনাভাইরাস 124 টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দিনে দিনে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুসংখ্যা। অন্যান্য দেশের মতো করোনার কবলে পড়ে ভারতের অবস্থাও টালমাটাল। ভারতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এমন সময় করোনা রুখতে অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশ সরকার। ইচ্ছাকৃতভাবে করোনা সংক্রমণ ছড়ালে তাঁর সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেই সঙ্গে গুণতে হবে মোটা অংকের জরিমানা। এই অর্ডিন্যান্সটিতে ছাড়পত্র মিলেছে উত্তরপ্রদেশ মন্ত্রিসভার। এরপর রাজ্যপালের সই হলেই এটি আইনের রূপ ধারণ করবে।

অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বলা হয়, কোনও ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনও ব্যাক্তির শরীরে সংক্রমক ব্যাধি ছড়ান তবে তাঁর ২-৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। পাঁচজন বা তার বেশি সংখ্যক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটালে শাস্তি আরো বেশি হবে। আর এই সংক্রমণের ফলে যদি কারও মৃত্যু হয়, তাহলে অন্তত সাত বছরের জেল। সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। সেই সঙ্গে ৩-৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। রাজ্যের মুখ্যসচিব আর কে তিওয়ারি এই অর্ডিন্যান্সটি একটি উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, কোনও সংক্রমিত ব্যাক্তি গণপরিবহণের মাধ্যমে যাত্রা করল, সেক্ষেত্রে তার ১ থেকে ২ বছরের জেল এবং ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা হবে। তাঁর থেকে কারও সংক্রমণ হলে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হবে।

এই নতুন অর্ডিন্যান্সে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তার দিকেও বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। কেউ কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভাঙলে তাঁর ১ থেকে ৩ বছরের জেল এবং ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেলে জেল হতে পারে ১ থেকে ২ বছরের। এক্ষেত্রেও ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আসলে করোনা রুখতে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করতে চাইছে না যোগী সরকার। সেজন্যই অসচেতন নাগরিকদের প্রতি কড়া হবার জন্য এই নিয়ম আনতে চলেছে তারা।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন