১০৮ কলসের জলে নারায়ণ স্নানের ভেজা মাটি থেকেই গড়ে উঠে ভারতচন্দ্রের মা দুর্গা

বাঙালির কাছে দুর্গাপূজা একটি ঐতিহ্য। যুগ-যুগান্তর ধরে যা চলে আসছে। আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই বাংলার প্রতিটি প্রান্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে মেতে উঠবে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পুজো আছে, যেগুলি তথাকথিত “বনেদি বাড়ির পুজো” হিসেবে বিখ্যাত। এইসকল পুজোর আলাদা ইতিহাস, আলাদা ঐতিহ্য থাকে। এ রকমই এক পুজো হল অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের বাড়ির পুজো।

এই বাড়ির পুজো যে কত পুরনো তার কোনো হিসেব নেই। শোনা যায়, ভারতচন্দ্র বাল্যকালে নাকি এই পুজোয় অংশগ্রহণ করে অঞ্জলি দিতেন। উল্লেখ্য, রায়বাড়ির আরাধ্য দেবতা হলেন নারায়ণ। এবাড়ির দূর্গা প্রতিমা তৈরি হয় নারায়ণের স্নান ধোয়া জলে সিক্ত মাটি থেকে। বাড়ীর ঠিক পাশেই বয়ে গেছে রণ নদী। অতীতে যে নদীর তীরে রানী ভবাশংকরীর সঙ্গে পাঠানদের যুদ্ধ হয়েছিল।

প্রচলিত নিয়ম অনুসারে সেই নদী থেকে পুরো ১০৮ ঘড়া জল এনে বাড়ির উপাস্য দেবতা নারায়ণকে স্নান করানো হয়। নারায়ণের স্নান সিক্ত মাটি থেকেই দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়। উল্লেখ্য, বাড়ির ঠাকুরঘরে অষ্টধাতুর জয় দুর্গা মূর্তি আছে। যিনি সারা বছরই পূজিতা হন। দুর্গোৎসবের সময় যে একচালা প্রতিমা গড়ে তোলা হয় সেই এক চালাতে মা দুর্গার দুপাশে উপরের দিকে থাকেন কার্তিক এবং গণেশ। নিচে থাকেন দেবী সরস্বতী এবং লক্ষী।

একচালা প্রতিমার ক্ষেত্রে লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্তিক-গণেশের এহেন অবস্থান প্রায় বিরল। কারণ প্রতি ক্ষেত্রেই লক্ষী এবং সরস্বতী উপরে অবস্থান করেন। পরিবারের সদস্য পঙ্কজ কুমার রায় এ প্রসঙ্গে জানালেন, রায় পরিবার একসময় বর্ধমানের রাজার অধীনে জমিদার পরিবার ছিল। সেই রাজার পরিবারে এরকমই বিপরীত নিয়মে পুজা হত। সম্ভবত সেখান থেকেই রায়বাড়ির পূর্বপুরুষেরা এই নিয়মের প্রচলন করেছিলেন।