উচ্চপদস্থ কোনও ব্যক্তির যোগাযোগ ছাড়া ৭৮% দেশবাসীর কোভিড ICU বেড মেলে নি: সমীক্ষা

দেশজুড়ে উত্তরোত্তর করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ৫৫ লক্ষ্যের কাছাকাছি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে করোনা হাসপাতালে ভর্তি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই মহামারীর পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর জন্য বেড পাওয়া কিন্তু খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। রীতিমতো কাঠ-খড় পুড়িয়ে রোগীর জন্য বেড জোগাড় করতে হচ্ছে। করোনা আক্রান্তের জন্য একটা বেড জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণমানুষ।

তবে এই পরিস্থিতিতে যদি রোগীর উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ থাকে, তাহলে সেই রোগী অনায়াসেই আগে বেড পেয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ, সব জায়গার মতো করোনা বেড পেতেও রীতিমতো স্বজনপোষণ নীতি চলছে দেশে। তাই সাধারণ ব্যক্তি যাদের উপরমহলে কোনো চেনাশোনা নেই, তারা যতই মুমূর্ষ হয়ে পড়ুন না কেন, তাদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এমনই উদ্বেগজনক রিপোর্ট পেশ করল লোকাল সার্কেল নামক একটি সংস্থা।

করোনা আবহে দীর্ঘদিন ধরেই রোগীর পরিবারবর্গ অভিযোগ জানিয়ে আসছেন, হাসপাতাল সরকারি হোক বা বেসরকারি, করোনা রোগীর জন্য বেড মিলছে না। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই লোকাল সার্কেল নামক সংস্থাটি সমীক্ষা চালাতে শুরু করে। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমীক্ষাটি চালানোর জন্য দেশের মোট ২১১টি জেলার ১৭,০০০ জন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেন তারা। তাদের কাছ থেকেই জানা গেল যাদের ওপর মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তারা করোনা রোগীর জন্য হাসপাতালের বেড জোগাড় করতে পেরেছেন।

সমীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে, এই ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রায় ৩৮ শতাংশ। বাকিদের মধ্যে ৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তাদেরকে নিজে থেকে বারবার হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করে রীতিমতো যেন যুদ্ধ করেই বেড জোগাড় করতে হয়েছে। কারণ তাদের ওপর মহলের সাথে যোগাযোগ ছিল না। বাকিদের মধ্যে ৪০ শতাংশ জানালেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো প্রচার চালিয়ে এবং পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে তবে বেড জোগাড় করতে পেরেছেন তারা। ৭ শতাংশ ব্যক্তিকে অবশ্য সরকারি দপ্তরে ঘুষ দিয়ে বেড জোগাড় করতে হয়েছে। বাকিদের মধ্যে ৪ শতাংশ ব্যক্তি সাধারণভাবেই বেড পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে বাকি চার শতাংশ অবশ্য কোনোভাবেই বেড জোগাড় করতে পারেননি।