ধর্মান্তরিতদের হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হলো মূল কাজ, মালদহের কমলি সোরেন পাচ্ছেন “পদ্মশ্রী”

তিনি মালদহের গুরুমা হিসেবেই পরিচিত, এবার এই গুরুমা কেন্দ্রীয় সরকারের পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হতে চলেছেন। দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিকের সম্মান পেতে চলেছেন মালদহের গুরুমা। স্বয়ং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবেন তিনি। আর এই কথা চাউর হতেই সারা মালদহ জুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান তাদের জেলা থেকে এই প্রথম। সবার মুখে শোনা যাচ্ছে সমাজসেবার কারণেই এই পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। তবে এখনো গুরুমার মনে রয়েছে একাধিক প্রশ্ন, কোন কারণে তিনি এই পুরস্কার পাচ্ছেন?

এই গুরুমার বাসস্থান গাজোল এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কোদালহাটি, সেখানে রাজেন বাবার আশ্রম এই তিনি ছোটবেলা থেকে থাকতেন। ছোটবেলা থেকেই নানা রকম অসুখ বিসুখ এর কবলে পড়েন তিনি, তাই মা বাবা ঝক্কি সামলাতে না পেরে তাকে সেই আশ্রমেই রেখে যান। হয়তো তুমি পড়াশোনা বেশি দূর করতে পারেননি, কিন্তু আশ্রমের পরিবেশের কারণেই ধর্মের প্রতি একটা ভালবাসা জন্মেছে তার। আশ্রম থেকেই ধর্ম জ্ঞান লাভ করেন তিনি ও দীক্ষা নেন। এর পরেই তার প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে হিন্দু ধর্ম প্রচার করা। যেভাবেই হোক হিন্দু ধর্মের মহত্ত্ব মানুষের মধ্যে সঞ্চার করা, বয়স তার 50 এর উপরে ‌। কিন্তু এখনও তিনি এই ধর্ম প্রচারের কাজে যুক্ত। তবে তার পথটা তেমন একটা সহজ ছিল না অনেকবার জড়িয়ে পড়েছে বিতর্কে।

এই গুরুমার প্রধান কাজ যারা চাপে পড়ে বা বাধ্য হয়ে ধর্মান্তরিত হয়েছে তাদের হিন্দু ধর্মের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনাই একমাত্র লক্ষ্য। অনেক আদিবাসী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে, এমনকি অনেক হিন্দু মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তাদের ফের হিন্দুধর্ম ফিরিয়ে আনাটাই গুরুমার প্রধান কাজ।জীবনের প্রথম দিকে তিনি বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন ও মানুষের চাল-চলন ধর্ম সম্পর্কীয় আচরণ লক্ষ্য করতেন। তিনি লক্ষ্য করতেন কাদের বাড়িতে তুলসী গাছ রয়েছে, না থাকলে তিনি নিজে দিয়ে বসিয়ে দিতেন। তবে তিনি কঠিন সময়েও তাদের পাশে থেকেছেন। তাদের সাহায্য করেছেন।

একটা সময় অনেকেই তার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করে, কারণ তিনি নাকি জোর করেই এক ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে ফেরানোর জন্য গণবিবাহের আয়োজন করে। এ গণবিবাহের উদ্যোক্তা হিসেবে ছিলেন গুরুমা নিজে। শেষ পর্যন্ত সেই গণবিবাহের অনুষ্ঠানে গোলমাল বাঁধে এতটাই, বাধ্য হয়েই পুলিশকে উপস্থিত থাকতে হয় সেখানে। তৃণমূলের তরফ থেকেও জোর করে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তোলা হয়। এমনকি শোনা যায় ধর্মান্তরিত করার জন্য 10 থেকে 12 হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় তাদের।

এই নিয়ে চুপ থাকে না মুখ্যমন্ত্রী নিজেও, তিনি এই ঘটনাকে উল্লেখ করেই বলেন বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে, মানুষের আবেগ নিয়ে খেলছে। মালদহের আদিবাসী মেয়েদের জোর করে বিয়ে দিয়ে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। আমরা হয়তো গরিব হতে পারি কিন্তু আমাদের নিজের আত্মসম্মানবোধ রয়েছে। তাই এবার থেকে রাজ্য সরকার নিজেই গণবিবাহের আয়োজন করবে।আর তারপরেই সরকারের আয়োজিত গণবিবাহের দ্বারাই আদিবাসী মেয়েদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এবার এই পদ্মশ্রী প্রাপককে নিয়ে উঠেছে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন। অনেকেই বলছে যোগ্যতা বিচার না করেই পদ্মশ্রী পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই বলছে, সরকারের অনুগত থেকে এই ধর্মীয়সমাজ সেবিকাও সর্বোচ্চ সম্মান পায়। তৃণমূলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মোটকথা আদিবাসী ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেই এই পুরস্কার দান।