চিটফান্ডের টাকা পাচার, কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ প্রাক্তণ TMC সাংসদের বিরুদ্ধে

বিশিষ্ট অর্থলগ্নি সংস্থা অ্যালকেমিস্টের প্রধান তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা কেডি সিংকে গ্রেপ্তার করলো ই ডি। কেডি সিংয়ের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার প্রিভেনশন অফ মানি লন্ড্যারিং অ্যাক্টঅনুযায়ী এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরের কাছে গ্রেপ্তার হলেন কেডি সিং। তার গ্রেপ্তারির সঙ্গে সঙ্গেই রাজনীতির পালে যেন হাওয়া লেগেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তৃণমূলের এমন বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই এই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আছে।

সম্প্রতি আসন্ন একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে দলবদলের রাজনীতি প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফ থেকে বিজেপি প্রতি এই অভিযোগ আনা হয় যে, বিজেপি তৃণমূলীয় নেতাকর্মীদের ইডির ভয় দেখিয়ে তাদের নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে তৃণমূল দল ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছে! কে ডি সিং গ্রেপ্তার হতেই তৃণমূলের সেই দাবির নিশ্চয়তা প্রমাণিত হলো। প্রাক্তন তৃণমূল নেতা কেডি সিং হাজার হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে বিদেশে পাচার করেছেন, এমনই অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টররের তরফ থেকে দফায় দফায় তাকে জেরা করা হয়েছে। মঙ্গলবারের পর বুধবারও তাকে ইডির দপ্তরে হাজিরা দিতে হয়েছে। তবে ইডির কোন প্রশ্নের সঠিক জবাব তিনি দেননি। আর্থিক তছরুপের বিষয় নিয়ে তাকে যতই প্রশ্ন করা হয়েছে, তিনি তা এড়িয়ে গিয়েছেন বলে জানাচ্ছেন এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরের সদস্যরা। এবার তাকে হেফাজতে নিয়ে তাকে জেরা করে এই আর্থিক তছরুপের সঙ্গে জড়িতদের নাম জানতে চায় এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টর।

এদিকে বিজেপি নেতা মুকুল রায়, বিজেপির নবাগত সদস্য শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও কিন্তু একই অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, ওই চিটফান্ড সংস্থাকে প্রোমোট করেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। ওই সংস্থার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়েছেন তিনি। তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না কেন? প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতা। মোট কথা, ইডির জালে জড়িয়ে পড়ছেন দুর্নীতিবাজরা। তবে বিজেপিও অবশ্য দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল সদস্যদের দলে ঠাঁইই দিয়ে সমালোচনা এড়াতে সক্ষম হচ্ছে না।