মারা গিয়েছেন বাবা, তবুও বাড়ি ফিরতে পারলেন না ছেলে, করতে পারলেন না মুখাগ্নি

করোনা মোকাবিলার জন্য গোটা দেশ জুড়ে লকডাউনে চলছে। ফালাকাটার হিমঘরে আটকে পড়েছিল হাওড়ার ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা বাসুদেব অধিকারী। লকডাউনের মাঝেই তাঁর বাবা মারা যান। কিন্তু বাবাকে শেষ দেখা দেখতে পারেননি তিনি। কারণ তাঁর বাড়ি রেড জোনের আওতায় পড়ে। তবে তিনি একা নন। হাওড়া থেকে আসা আরও ৩০ জন শ্রমিক ফালাকাটার হিমঘরে আটকে পড়েছেন। তাঁরা কখনও হাওড়া প্রশাসন এবং কখনও আলিপুরদুয়ার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে কেউই বাড়ি ফেরানোর আশ্বাস দিচ্ছেনা। এরজন্য সমস্যায় পড়েছেন এই শ্রমিকরা। আলিপুরদুয়ার জেলায় মোট ১১ টি হিমঘর রয়েছে।

হিমঘর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরই মূলত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শ্রমিকেরা এই কাজ করে থাকেন। এবার হিমঘরে আলু রাখার কাজ চলাকালীনই গোটা দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হয়ে যায়। এর ফলে এপ্রিলের শুরুতে হিমঘরে আলু মজুতের কাজ শেষ হয়ে গেলেও আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন এলাকায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক আটকে পড়েন।

দীর্ঘদিন ধরে বাড়িঘর ছেড়ে হিমঘরে আটকে থাকার ফলে শ্রমিকরা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছেন। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ শুরু করেছেন শ্রমিকরা। জানা গিয়েছে, এরপর আলিপুরদুয়ার জেলায় আটকে পড়া ওই শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে উদ্যোগ হয়েছেন প্রশাসন। বাসে করে তাঁদের দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নিজেদের বাড়ির এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, হাওড়ার বাসিন্দা ওই ৩০ জন শ্রমিক এখনও ফালাকাটার দুটি হিমঘরে আটকে রয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে একজন হলেন বাসুদেব অধিকারী। তাঁর বাবার মৃত্যুসংবাদ তিনি সঠিক সময়ে পেয়ে যান। কিন্তু বাবাকে শেষ দেখা দেখতে যেতে পারেননি তিনি। বাসুদেব জানিয়েছেন, লকডাউন চলছে, অনেক দিন ধরে ফালাকাটায় হিমঘরে আটকে রয়েছেন। বাড়ির অন্যতম উপার্জনকারী তিনিই। কিন্তু লকডাউনের সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারলেননা। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁকেও দেখতে যেতে পারেন নি। হাওড়া রেড জোনে রয়েছে, তাই অনুমতি মেলেনি।

প্রশাসনও কিছু বলছে না। ফালাকাটার অন্য একটি হিমঘরে আটকে থাকা হাওড়ার বাসিন্দা অয়ন মান্না বলেন, তাঁরা আলিপুরদুয়ার এবং হাওড়া জেলা প্রশাসন উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ করছেন। কিন্তু বাড়ির ফেরার বিষয়ে কেউ সদুত্তর দিতে পারছেন না। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেছেন, এই বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের তরফে হাওড়া প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সবুজ সংকেত পেলেই প্রত্যেককে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন