কৃষকদের মতোই ধর্ণায় বসেছেন শিক্ষকেরা, দাবি পূরণ হবে কি?

বিগত প্রায় দু’মাস ধরে দিল্লির প্রবল ঠান্ডা উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকেরা একজোট হয়ে কেন্দ্রের প্রণীত নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান থেকে নড়বেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যেমন কৃষকরা তাদের দাবি তুলে ধরেছেন, ঠিক একইভাবে কলকাতায় পার্শ্বশিক্ষকরাও রাজ্য সরকারের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরছেন। প্রবল শীত, মশার কামড়, অসুস্থতা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ উপেক্ষা করেই তারাও তাদের অবস্থানে অনড়।

কলকাতার সল্টলেকের বিকাশ ভবনের আশপাশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিক্ষোভ মঞ্চ। শীতের দিনের অবলম্বন বলতে কেবল ত্রিপল টাঙ্গানো এক একটি মঞ্চ, যে মঞ্চে মাঝেমধ্যেই রাস্তার কুকুর উঠে আসে! শৌচাগার বলতে রয়েছে একটি মাত্র জৈব শৌচাগার, শিক্ষিকারা রাতে সেখানে যেতে ভয় পান। এরমধ্যেও পার্শ্বশিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে অনশন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

পার্শ্ব শিক্ষিকাদের অনেকেরই ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তারাও অভিভাবকদের সঙ্গেই বিক্ষোভ মঞ্চে রয়েছে। এই ছোট ছোট শিশুরাও প্রবল ঠান্ডা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শিশু শিক্ষা কেন্দ্র এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রায় ২৭ দিন ধরে এবং পার্শ্বশিক্ষকরা প্রায় ৩৭ দিন ধরে বিক্ষোভ অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে আবার প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছেন।

পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, গতবছরের শীতেও তারা বিকাশ ভবনের সামনে প্রায় ৩০ দিনেরও বেশি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। সেসময় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন বেতন কাঠামো বৃদ্ধি করা হবে এবং পার্শ্বশিক্ষকদের স্থায়ীকরণের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আদতে কোনো দাবি পূরণ করা হয়নি। তাই এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান চালিয়ে যাবেন।