পদ্মশ্রী পুরস্কার পেতে চলেছে উত্তরের সাহিত্যিক ধর্মনারায়ণ বর্মা

কোচবিহার- প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে প্রতি বছর পদ্ম সম্মান প্রাপকের তালিকা প্রকাশ করে ভারত সরকার। এবারও তার অন্যথা হল না। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২১–এর পদ্ম সম্মান প্রাপকের তালিকা। এবছর পদ্মবিভূষণ প্রাপকের সংখ্যা ৭। ১০ জন পাচ্ছেন পদ্মভূষণ পুরস্কার। পদ্মশ্রী প্রাপক ১০২ জন। এবার পদ্মবিভূষণ বা পদ্মভূষণ পুরস্কার বাংলার ঝুলিতে না এলেও পদ্মশ্রী–তে ভূষিত হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের সাত বাঙালি।

তাঁদের মধ্যে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন তুফানগঞ্জ মহকুমার তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের বারোকোদালী ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিপুর গ্রাম তথা উত্তরবঙ্গের গর্ব ধর্মনারায়ণ বর্মা। ১৯৩৫ সালের ১০ নভেম্বর জন্ম নেন তিনি। ছোট থেকেই এলাকায় বেশ আদরের ছিলেন ধর্ম নারায়ন বাবু। তিনি তুফানগঞ্জ নৃপেন্দ্র নারায়ণ মেমোরিয়াল উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে মেট্রিক পাশ করেন। এরপরেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবার জন্য কোচবিহার ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে আইএ এবং বিএ পাশ করেন। ১৯৫৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃতে এমএ পাশ করেন। এরপরই শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন ধর্মনারায়ণ বাবুর। তবে ১৯৯৫ সালে অবসর গ্রহণের পর তুফানগঞ্জে ফিরে আসেন। তারপর সেখান থেকে কামতাপুরি ভাষায় গবেষনা শুরু করেন। এরপর থেকেই ভাষা গবেষনাতেই তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। একধারে তিনি গবেষক এবং লেখক হিসাবে যথেষ্ট সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর লেখা বইগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কামতাপুরী ভাষা সাহিত্যের রূপরেখা, মহাবীর চিলারায়, মহারাজা নর নারায়ণ, এ ষ্টেপ টু কামতা বিহারি ল্যাঙ্গুয়েজ, কামতা বিহারি ভাষার ব্যাকরণ ইত্যাদি। তারপর ৭২ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে ধর্মনারায়ণ বাবুর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হওয়ায় কোচবিহারের তুফানগঞ্জ তথা উত্তরের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ খুব খুশি। জানা গেছে, এই প্রথম রাজবংশী সম্প্রদায়ের কোনও গবেষক পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ায় খুশিতে মেতেছে তুফানগঞ্জবাসী। এদিন ওই ঘোষণা হওয়ার পরে স্থানীয় মানুষজন ও ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে উৎপল দাস ধর্ম নারায়ন বর্মাকে সংবর্ধনা দিতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছেন। এবং তাঁর সাথে দেখা করে দীর্ঘক্ষণ আলাপচারিতা করেন বলে যানা গিয়েছে।