৫০০ টাকায় করোনার কিট তৈরী করলেন বাঙালি বিজ্ঞানীরা, পেলেন আইসিএমআরের ছাড়পত্র

প্রতিকী ছবি

চীন দেশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোনাভাইরাস বিশ্বের ১২৪ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দিনে দিনে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এই ভাইরাস দিনে দিনে ভোলবদল করছে। নোভেল করোনা ভাইরাস নিজেকে বদলে ফেলেও যাতে ফাঁকি দিতে না-পারে, তেমনই একটি ‘কিট’ তৈরি করতে সফল হয়েছেন এক দল বাঙালি বিজ্ঞানী। সম্পূর্ণ দেশীয় সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি এই কিট। এই কিট করোনা পরীক্ষার জন্য আইসিএমআরের ছাড়পত্র লাভ করেছে। দ্রুত পরীক্ষায় সক্ষম ওই কিটের দামও স্বল্প সংখ্যক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং আইসিএমআর করোনা পরীক্ষার জন্য এখনই সেটিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। তাই ছাঁকনির সংখ্যা নামিয়ে করোনা পরীক্ষার কিট তৈরি করেছেন ওই বিজ্ঞানীরা। কিটটি তৈরি করেছেন রাজ্যের একটি বেসরকারি সংস্থার বিজ্ঞানীরা। তাতে যুক্ত ছিলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী সমিত আঢ্য এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান কৌস্তুভ পণ্ডাও। কৌস্তুভবাবু জানান, চার প্রাইমার-যুক্ত কিটটি বর্তমানে রোগ নির্ণয়ের কাজে না-লাগলেও সেটি ভাইরাসের চরিত্র বুঝতে গবেষণাগারে ব্যবহার করা যেতে পারে। করোনাভাইরাস যে-হেতু মিউটেট করবে বা রূপ বদলাবে, তাই গবেষণায় এই কিট উপযোগী হবে। সমিতবাবু বলেন, ‘‘চার প্রাইমারের কিটে পরীক্ষা হত দু’ধাপে। সময়ও বেশি লাগত। কিন্তু এই ভাইরাসের মিউটেশনের থেকে দ্রুত রোগ নির্ণয় করাটাই এখন মূল কথা। দুই ছাঁকনির কিটটি দ্রুত এবং এক ধাপেই পরীক্ষা সেরে ফেলতে পারে। তাই করোনা মোকাবিলায় সেটি অনেক বেশি উপযোগী।’’

ওই বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে, আইসিএমআর স্বীকৃত কিটটির দাম ৫০০ টাকা। এত সস্তায় দেশে আর কোথাও কিট পাওয়া যাবে না। এতে পরীক্ষার খরচ অনেক কম হবে। স্বীকৃতি পাওয়ার পরে বিভিন্ন রাজ্য সেই কিট কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংস্থার বিজ্ঞানী জয়দীপ মিত্রের দাবি, ‘‘এই কিটের মাধ্যমে মাত্র ৯০ মিনিটে পরীক্ষার ফল জানা যায়। সদ্য সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরেও ভাইরাসের উপস্থিতি নির্ধারণ করা সম্ভব।’’

কৌস্তুভবাবু বলেছেন, দেশের অন্যান্য সংস্থাগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা সরঞ্জাম দিয়ে কিট তৈরি করেছে। তাতে কীটের দাম যেমন বেশি পড়ছে, তেমনই কিটের উৎপাদন নির্ভর করছে আমদানির পরিমাণের উপরে। কিন্তু দেশীয় সরঞ্জামে তৈরি হওয়ায় এই কিটের দাম কম, উৎপাদনও পর নির্ভরশীল নয়। এই কিট তৈরির জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন জয়দীপ মিত্র, গৈরিক মুখোপাধ্যায়, পিনাকী চট্টোপাধ্যায়, অভিজিৎ ঘোষ, মহম্মদ নাজিম খানের মতো ওই সংস্থার বিজ্ঞানীরা। এই বিজ্ঞানীরা সংস্থার ক্যাম্পাসে থেকে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই কিট তৈরি করেছেন।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন