প্র’য়া’ত হলেন ক’বি শঙ্খ ঘোষ, কো’ভি’ড কে’ড়ে নি’লো প্রা’ণ

গতবছর যেমন করোনা কেড়ে নিয়েছিল বহু মানুষের প্রাণ, যেমন এই বছরও করণা দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের মুখোমুখি করিয়ে দিয়েছে আরো বড় বিপর্যয় এর সামনে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কেড়ে নিল শঙ্খ ঘোষের মতো কবি কে। বাংলা কবিতাকে একা হাতে বহুদিন চালনা করেছিলেন তিনি। শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সহ আরো বহু নামিদামি কবি দের পর বাংলা কবিতার ভার ছিল শুধুমাত্র শঙ্খ ঘোষের কাঁধে। অবশেষে তিনি চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৮৯ বছর।

গত সপ্তাহে গায়ে জ্বর থাকার কারণে করোনা পরীক্ষা করেছিলেন তিনি। রিপোর্ট দুর্ভাগ্যবশত আসে পজেটিভ। বার্ধক্য জনিত সমস্যায় বহুদিন ধরেই ভুগছিলেন কবি। শারীরিকভাবে আগে থেকেই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, গত বছর জানুয়ারি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর বাড়িতে আইসোলেশন এ থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। তবে হাসপাতালে যেতে চাননি এই প্রবীণ কবি। বাড়িতে চিকিৎসা চলছিল তার। মঙ্গলবার রাতে আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হতে থাকে তার। বুধবার রাতে তাকে দেওয়া হয় ভেন্টিলেটরে। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবশেষে বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ সকলকে ছেড়ে চলে গেলেন তিনি।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছিলেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অফ আইওয়ার রাইটার্স ওয়ার্কশপেও একসাথে সামিল হয়েছিলেন তিনি। বছর দুয়েক আগে মাটি নামের এক কবিতায় কেন্দ্র সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন তিনি।

তার কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দিনগুলি রাতগুলি, বাবরের প্রার্থনা, মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে বহুবার সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। বাবরের প্রার্থনা কাব্যগ্রন্থ টির জন্য তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার পান। কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় রক্ত কল্যাণ নাটকটি অনুবাদ করেও তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার। এছাড়াও রবীন্দ্র পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং সরস্বতী সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি।