শিক্ষক বলেছিল তুই কিছুই ক’র’তে পা’র’বি না জী’ব’নে, সেই ছাত্রই অস্ট্রেলিয়াতে ১০ কো’টি টা’কা’র মালিক

জীবনে সফল হতে হলে অনেক গুলি ধাপ ধীরে ধীরে অতিবাহিত করতে হয়। জীবনের প্রত্যেকটি স্তরেই আমরা পরিচিত হই অনেকের সাথে। কেউ জীবনে হয়তো সত্যিই সফল হয়েছেন, আবার কারোর জীবনে সাফল্য হাতছানি দেয়নি। তবে কথায় আছে জীবনে যত বাধাই আসুক না কেন কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে যদি নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকা যায় তাহলে জীবনে একদিন সাফল্য আসবেই। প্রত্যেকটি মানুষেরই জীবনে কিছু না কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে। সকলেই চায় নিজের ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করতে, বাবা মায়ের সম্মান রক্ষা করতে, বাবা মা-এর সুযোগ্য সন্তান হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বাধারও সম্মুখীন হতে হয়। জীবনটাতো শুধু গোলাপের পাপড়ির মতো কোমল নয়, তাতে বিছানো রয়েছে অনেক কাঁটাও। পিছনে অনেকে অনেক রকম কথা বলতে থাকে, কিন্তু সেসব কথার পরোয়া না করে জীবনের লক্ষ্যে স্থির থাকলে যে সফল হওয়া যায় তা অনেকেই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। আসলে সবার জীবনেই কিছু না কিছু স্বপ্ন থাকে কিন্তু আজকালকার দিনে মানুষের কাছে যদি টাকা না থাকে তাহলে অনেক স্বপ্নই অধরা থেকে যায়।

তবে শুধু টাকাই শেষ কথা নয়, মানুষের জীবনের লড়াইয়ের মূল হাতিয়ারই হল তার অদম্য ইচ্ছে শক্তি ও কঠোর মানসিকতা, তাহলেই সব বাধা অতিক্রম করা যায়। আজ আপনাদের কাছে এমন একজন মানুষের কথা বলব যা সকলের কাছে অনুপ্রেরণা। সেই ছেলেটির নাম আমির কুতুব, বাড়ি উত্তরপ্রদেশের আলীগড়ে। গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তার বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হোক। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণী পাস করে যখন সে কলেজে ভর্তি হল তখন তার পড়াশোনার ভঙ্গি দেখে এক শিক্ষক বলেছিলেন সে জীবনে কিছুই করতে পারবে না।

বিটেক পাশ করার পর পারিবারিক চাপে একটি চাকরিতে জয়েন করেন আমির । কিন্তু কিছুদিন পর সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করেন এবং গ্রাফিক ডিজাইনে তিনি যথেষ্ট পারদর্শীও ছিলেন। তার এই সুন্দর কাজ দেখে অস্ট্রেলিয়ার এক লাইন তাকে নিয়ে একটি ব্যবসা খোলাতে চেয়েছিলেন, যার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসতে অনুরোধ করা হয়েছিল আমির কুতুবকে।

এরপর আমির তার স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করে ভিসার বন্দোবস্ত করেন, এবং অস্ট্রেলিয়ায় নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে, আজ তিনি সেখানে একজন বড় বিজনেসম্যান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে আমিরের বার্ষিক টার্নওভার ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অপেক্ষাকৃত গরিব পরিবার থেকে কঠিন লড়াইয়ে হার না-মেনে নিজের স্বপ্নকে পূরণ করার যে মানসিকতা আমির দেখিয়েছেন তা সকলের কাছে সত্যিই অনুপ্রেরনা।