১০০ বছর আ’গে কিভাবে দীঘা যে’তো সাধারণ লো’কে’রা, জানুন অ’জা’না কা’হি’নী

এখন থেকে ১০০ বছর আগে আর আজকের দিনের মত অত ভালো যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না। কোন দেশে হোক কিংবা বিদেশে, দেশের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হাতের মুঠোয় এখন অনেক যানবহন এবং পরিবহন ব্যবস্থা। চাইলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত যেতে পারি, কিন্তু এতো পরিবহন ব্যবস্থা এখন থেকে ঠিক ১০০ বছর আগে কি একই ছিল? পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এতটাই সুবিধা ছিল? না তা অবশ্যই না, সমাজ যত উন্নত হচ্ছে তেমনি বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও অনেক বেশি উন্নত হচ্ছে, এর সঙ্গে ১০০ বছর আগেকার তফাৎ হয়তো অনেকটাই বেশি বা বলা যেতে পারে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে আমাদের সাধারন মানুষের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হল দীঘা। বাইরের লোক তো আছেই জেলার আশেপাশের মানুষরা এই জায়গাটিতে ঘুরতে আসেন নানান সময়ে। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছি যে এই দীঘায় এখন যেভাবে আমরা যাতায়াত করি ঠিক এখন থেকে ১০০ বছর আগে কিভাবে যাতায়াত করতো? এখন বাস কিংবা প্রাইভেট গাড়ি চাইলে অথবা বাইক দীঘায় আমরা পাড়ি দিতে পারি, কিন্তু এতটাই কি সহজ ছিল ১০০ বছর আগে দীঘা যাওয়ার যাত্রা?

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা গেছে যে ১০০ বছর আগে সাধারণ মানুষের পক্ষে দীঘা যাওয়া হয়তো অনেকটাই ব্যয়বহুল ছিল, কিন্তু সাহেবদের ক্ষেত্রে সেটা ছিল না। তারা কলকাতা থেকে গাড়ি করে যেত কাঁথি এবং সেখান থেকে তারা দীঘার জন্য রওনা হতো। আজ থেকে ১০০ বছর আগের দীঘায় পৌঁছাতে সময় লাগতো প্রায় দুদিন। ভাবতেই অবাক লাগছে না? এখন যেটা আমাদের কাছে মাত্র ঘণ্টার ব্যাপার সেটা এখন থেকে ১০০ বছর আগে সাধারন মানুষের ক্ষেত্রে পৌঁছাতে লাগতো দুইদিন।

১০০ বছর আগে দীঘা নামের একটি জায়গা ছিল কিন্তু বর্তমানে সেটি আজ সমুদ্রের তলায় চলে গেছে ওই অঞ্চল ষটির নাম ছিল বিলকুল পরগনা। ১৭৮০ সাল তখন পূর্ব মেদিনীপুরের প্রধান পরিবহন ছিল হাতি ঘোড়া। কলকাতা থেকে এসেই সময় সাহেবরা এই জায়গাটিতে আসত এবং ছুটি কাটিয়ে সেখান থেকে চলে যেত। সেই সময়ের দীঘার বালিয়াড়ির ওপর গড়ে উঠেছিল কিছু বাংলো। ১৯১১ সালে তৎকালীন বৃটিশ সরকার কলকাতা থেকে দীঘায় আসার সড়ক পথ তৈরি করার চেষ্টা করলেও সেটা বেশিদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি।

১৯২১ সালে দীঘায় এলেন কলকাতার আমেরিকান কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা প্রকৃতি প্রেমিক জন ফ্রান্স নেইথ। তিনি প্রথমে ওভারল্যান্ড গাড়িতে করে গেলেন বেলদা সেখানথেকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে গেলেন কাঁথি তারপর কাঁথি থেকে বালিশ্বরের জমিদারের সহায়তায় হাতি চেপে গেলেন দীঘায়। তার সেই দীঘা জায়গাটি এত পছন্দ যে সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন রানস উইস্ক হাউস। সেই সময় কলকাতা থেকে তিনি ২ সিটার পাইপার প্লেন করে আসতেন দীঘায় এবং যেটা দেখার জন্য গ্রামের বাসিন্দারা সকলেই উৎসাহী হতো। ১৯৮০ সালের আশেপাশে খড়গপুর থেকে তৈরি হয় পিচঢালা রাস্তা সাতমাইল ব্রিজ।

সেই সময় যদি দীঘা কাউকে আসতে হতো তখন তাকে আসতে হতো খড়গপুর। সেখান থেকে বাসে করে কাঁথি। তারপর কাঁথি থেকে দীঘা। সেই সময় কাঁথি থেকে দীঘা পর্যন্ত একদিনও চলতে তিনটে বাস। সেই সময় বাস গুলি নৌকা পারাপার করা হতো কারণ সেই সময়ে নদীর উপর দিয়ে যাওয়ার মতো রাস্তা গড়ে ওঠেনি। নদী পারাপার প্রায় জন্য বাস গুলি কে পাটাতনের ওপর ভাসিয়ে নিয়ে আসা হতো।

কাঁথি থেকে দীঘা যাওয়ার রাস্তাটা খুব একটা সহজ ছিল না কারণ কাঁথি থেকে আগে যেতে হতো বালিবালিশাই। বালিসাই আসার রাস্ত টা ভালো কিন্তু বালিসাই থেকে দীঘা যাওয়ার রাস্তাটা ছিল ইটের এবং এই রাস্তার ইট জোগান দেওয়ার জন্য রামনগরে একটি ইটের ভাটা তৈরি হয়েছিল। ১৯৫১ থেকে ৫২ সালে মধ্যে ডঃ বিধান চন্দ্র রায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে মাত্র এক মাসের মধ্যে কাঁথি থেকে দীঘা যাওয়ার পথে ইছামনি খালের ওপর একটি বাঁশের সেতু তৈরি করালেন। এরপর ১৯৫৭ থেকে ৫৮ সালের মধ্যে তিনি একটি লোহার ব্রিজ তৈরি করিয়েছিলেন।