রক্তের ব’ড্ড অ’ভা’ব! রক্ত’দা’ন করলেই পা’বেন ভ্যা’ক’সি’নে’র স্ল’ট

মহামারির কারণে বহু জায়গায় আগে প্রত্যেক বছর বছর রক্তদান শিবিরের মতো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হত, কিন্তু গত বছরে করোনার প্রভাব এর জন্য এই ধরনের অনুষ্ঠান গুলি থেকে অনেকেই বিরত রয়েছেন। যার জন্য নানান জায়গায় দেখা দিচ্ছে রক্তের অভাব। যে ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলিতে এখন প্রচুর পরিমাণে রক্তের অভাব দেখা দিচ্ছে। সমস্ত রক্তের মধ্যে নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত গুলি পাওয়া একদমই যাচ্ছে না। এইরকম অবস্থায় এই রক্তের অভাবে মেটাতে দেখা দিচ্ছে নানান সমস্যা। গত বছর যখন মহামারী শুরু হলো তারপর থেকেই ব্লাড ব্যাংক গুলির সমস্তই ফাঁকা হয়ে গেছে, এইরকম অবস্থাতে রক্তের অভাব মেটাতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালসহ ব্লাড ডোনেশন অর্গানাইজেশন একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন।

তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যারা রক্ত দান করবেন তাদের করোণা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। যারা আগে থেকে টিকা নিয়েছেন তারা অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত দিতে পারবেন না এইরকম একটি বিষয়ও অনেক মানুষের মনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে যার জন্য তারা রক্ত দিতে পারছেন না। প্রথমদিকে বলা হয়েছিল যে যারা করোনা টিকা নেবেন তারা প্রায় দেড় থেকে দুই মাস কোনরকম রক্তদান করতে পারবেন না। এই রকম সমস্যার জন্য রক্তের আকাল দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন জায়গাতেই। কিন্তু সম্প্রতি বলা হয়েছে যে, যারা করোনা টিকা একটি ডোজ অথবা দুটি ডোজ নিয়ে থাকেন তবে তারা রক্তদান করতে পারবেন।

কিন্তু এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে যে, যারা প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন, তারা ১৪ দিন পরেই রক্ত দিতে পারবেন। এইরকম একটি ঘোষণার পরেই ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন এবং যার মাধ্যমে প্রত্যেকটি হাসপাতালে রক্তদান করার ব্যবস্থা করা হয়েছে হয়েছে। যারাই রক্ত দান করবেন তাদেরই ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়ার জন্য শ্লট বুক করা হবে। এই মহামারীর অবস্থাতে অনেকেই হাসপাতলে আসেন না ভয়ের কারণে। করোনা প্রক্কালে প্রজেক্ট লাইভ নামের একটা নন প্রফিট ট্রাস্ট আগের মাসে একটি চুক্তি করেছেন টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতালে সাথে। বলা হয়েছে যে, যারা রক্ত দান করবেন তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, এরকম একটি উদ্যোগকে আরো বেশি উৎসাহ দিচ্ছে টাটা মেডিকেল সেন্টার।

প্রজেক্ট লাইভ ফোর্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রণব বেদি তিনি বলেন যে, “এইরকম একটি সময়ে রক্তের ভীষণ আকাল হচ্ছে এবং যার জন্য সম্মুখীন হতে হচ্ছে হাসপাতাল গুলিকে, তার সঙ্গে সঙ্গে পাশাপাশি এই রকম একটি সময়ও ভ্যাকসিনের শ্লট নিয়েও একটি বড় সমস্যার মধ্যে পড়ছে সাধারণ মানুষেরা। এরকম একটি সময়ে সেইজন্যে টেকনো ইন্ডিয়া হাসপাতালকে আমরা সবাই অনুরোধ করেছি, যেন হাসপাতালে যদি কেউ কখনো রক্ত দিতে আসে তবে যেন তার রক্ত নেওয়ার পাশাপাশি তাকে করোনার ভ্যাকসিনের একটি শ্লট করে যেন দেওয়া হয়। যদি কোন ব্যক্তি রক্ত দিতে হাসপাতালে আসতে ভয় পান, তাহলে আমাদের তরফ থেকে একটা অথবা দুটি বাস করা হচ্ছে, যে বাসগুলো শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাবে এবং যে যে রক্ত দিতে চায় তার থেকে রক্ত নেওয়া হবে। এই বাসগুলো সম্পূর্ণ স্যানিটাইজার করা থাকবে তাই কোনোরকমে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।”