জিদানের গুঁতো, ফের উস্কে দিলো জল্পনা, আদতে কি বলেছিলেন তা স্বীকার করলেন মাতেরাৎজি

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যতগুলো স্মরণীয় ঘটনা লিপিবদ্ধ করা আছে তার মধ্যে অন্যতম ২০০৬ সালের ফ্রান্সের তারকা জিনেদিন জিদানের মাথা দিয়ে ইতালির ডিফেন্ডার মারকো মাতেরাৎজি-কে সজোরে গুঁতিয়ে দেওয়া একটি ঘটনা।আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কিংবদন্তী মিডফিল্ডার ফাইনাল ম্যাচের এক্সট্রা-টাইমে মাতেরাৎজির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন, এবং মাতেরাৎজি তাঁকে এমন কিছু বলেন যার ফলে জিদান সটান মাতেরাৎজির বুকে মাথা দিয়ে প্রবল একখানা ধাক্কা মারেন।

ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জিকে বুকে মাথা দিয়ে গুঁতো দিয়ে জীবনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে লালকার্ডের মত কলঙ্ক দেখতে হয়েছিল ফ্রান্সের অধিনায়ককে। সেইসঙ্গে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। কেন মাথা গরম করে জিদানের মতো এত ভদ্র ফুটবলার?এই ঘটনা নিয়ে এযাবত কাল বহু জলঘোলা তথা জল্পনা হয়েছে।

কিন্তু এই নিয়ে দু’জনের কেউ এতদিন মুখ খোলেন নি। যার ফলে প্রকৃত সত্য কখনই প্রকাশ্যে আসে নি। অবশেষে ঘটনার চোদ্দ বছর পর প্রকাশ্যে এল ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে জিদানের সাথে মাতেরাৎজ্জি-র গন্ডগোলের নেপথ্যের ঘটনা। জানালেন ইতালিয় ডিফেন্ডার নিজেই।

এক সাক্ষাৎকারে মাতেরাৎজ্জি বলেন ,” ম্যাচের মাঝামাঝি সময় থেকে আমাদের মধ্যে ছোটখাটো স্লেজিং চলছিল। প্রথমার্ধে জিদান গোল করার পর কোচ মারসেলো লিপ্পি আমাকে বকা দিয়ে জিদানকে মার্ক করতে বলে। প্রথমবার আমাদের মধ্যে ঠোকাঠুকি হওয়ার পর আমি ক্ষমা চাই। কিন্তু জিদান আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেনি। এরপর ট্যাকেল, স্লেজিং চলতে থাকে। ১১০ মিনিট পর সেটা চরমে ওঠে। এরপর জিদানের জার্সি টেনে ধরি আর ধাক্কাধাক্কি হয়। জিদান আমার কাছে এসে বলে “আমার জার্সিটা তোমাকে পরে দিয়ে দেব।” আমি বলেছিলাম, “তোমার জার্সিতে আমার কোন আগ্রহ নেই বরং তোমার বোনকে দিলে নিয়ে নেব।”

ব্যস, এই কথাতেই জিদানের মাথায় রক্ত চড়ে যায়। তার পরের ঘটনা আপনারা সবাই জানেন এবং টেলিভিশনের দৌলতে সবাই দেখেছিলেন।”তবে বিশ্বকাপের বেশ কিছু বছর পরে এই ঘটনায় তাঁর কৃত কর্ম নিয়ে নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন জিদান। “২০০৬ বিশ্বকাপে যা হয়েছিল, তা নিয়ে গর্বিত নই আমি। কাউকে (কোনও খেলোয়াড়কে) বলব না, এই আচরণ করতে।”

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন