পেটের দায়ে আমেরিকায় বিশেষ চাকরি খুইয়ে আজ সবজি বিক্রি করছেন যুবক

পেটের দায়ে আমেরিকায় বিশেষ চাকরি খুইয়ে আজ সবজি বিক্রি করছেন যুবক
ছবিঃ anandabazar

আমেরিকার একটি নামি জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি করতেন পাঁশকুড়ার খণ্ডখোলা এলাকার বাহারপোতা গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক মাইতি। লকডাউনের আগে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। আমেরিকাতেই মে মাসে নতুন একটি সংস্থায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার জেরে চাকরি খুইয়ে গেছে তাঁর। চাকরি খুইয়ে এখন তিনি অনাজ বিক্রি করছেন।

তার পরিবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে হোটেল ম্যানেজমেন্টে ভর্তি হয়েছিলেন। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে এবং বিবাহিতা দিদির আর্থিক সাহায্যে পাঠক্রম শেষ করে গত বছর এপ্রিল মাসে আমেরিকার আলাবামা মোবিল বন্দরে একটি নামী জাহাজ সংস্থায় ১০ মাসের চুক্তিতে শেফের চাকরি নেন তিনি।

ভারতীয় মুদ্রায় মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পেতেন তিনি। তাকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে তাঁর ভাইয়ের কলেজের পড়া বন্ধ হয়। চাকরি পাওয়ার পর আবার ভাইকে কলেজে ভর্তি করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। চাকরির চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ২৫ জানুয়ারি বাড়িতে ফেরেন তিনি। মে মাস থেকে আমেরিকাতেই অন্য একটি সংস্থায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার জেরে মার্চ মাস থেকে লকডাউন শুরু হয়। আমেরিকার ওই সংস্থা কার্তিককে জানিয়েছে,আপাতত আমেরিকায় আসা যাবে না।

চাকরিতে যোগদানের বিষয়টি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের জেরে আমেরিকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তাঁর সংসারে রয়েছেন মা, বাবা এবং ভাই। চাকরি পাওয়ার পর সংসার বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে চাকরি না থাকায় মাথায় হাত পড়েছে কার্তিকের। তাই সংসার চালাতে আনাজ বিক্রি শুরু করেন তিনি। পাঁশকুড়ার মাগুরি জগন্নাথচক থেকে প্রতিদিন সকালে সাইকেলে করে আনাজ কিনে এনে বাহারপোতায় বিক্রি করেন তিনি।

কার্তিক বলেন, অনেক টাকা মাইনে পেতেন। রাতারাতি আবার গরিব হয়ে গেলেন। তবে তিনি বিশ্বাস রাখছেন, আবার সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। জীবনের এই লড়াইটাই করে যেতে চান বলে জানান তিনি। কার্তিকের মা ভানুমতি মাইতি বলেন, কষ্ট করে ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। করোনা সব শেষ করে দিল। কার্তিককে আনাজের ব্যবসা করতে হবে তা কখনো ভাবতে পারেননি বলে জানান তিনি।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন