মাসে মাসে জমা করে পেয়ে যান মোটা অংকের টাকা, রইলো একাধিক স্কিমের যাবতীয় তথ্য

লকডাউনের বাজারে দেশের অর্থনীতি দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। লকডাউনের আগে থেকেই অবশ্য ভারতের অর্থনীতি গ্রাফ নিম্নমুখী ছিল। তবে করোনার কারণে দেশবাসী আগের তুলনায় আরো বেশি অর্থনৈতিক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। এদিকে ব্যাংক গুলিও বর্তমানে মূলধনের অভাবে ভুগছে। এমতাবস্থায় সেভিংস একাউন্টে ব্যাংকের দ্বারা প্রদত্ত সুদের হারে আগের তুলনায় অনেকটাই কাটছাঁট হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংকের তুলনায় বরং বেশি আশা দেখাচ্ছে পোস্ট অফিস। স্টকে বিনিয়োগ করতে না চাইলে অনায়াসেই পোস্ট অফিসের বেশ কয়েকটি ছোট ছোট সেভিংস স্কিমে টাকা রাখা যেতে পারে। গ্রাহকদের জন্য যা অত্যন্ত লাভজনক। পোস্ট অফিসের এরকম একটি প্রকল্প হল সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে মেয়েদের জন্যই প্রধানত এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

এই প্রকল্প অনুযায়ী, দেশের যেকোনো কন্যা সন্তানের পিতা মেয়ের দশ বছর বয়স বয়স হওয়ার আগে পর্যন্ত এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। এই প্রকল্পে বছরে ২৫০টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যেতে পারে। মেয়ের বয়স ২১ বছর হয়ে গেলেই টাকাটা ম্যাচিওর হয়ে যাবে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রকল্পে বছরে সর্বাধিক দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধা রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলো পিপিএফ ফান্ড। এই ফান্ডে বিনিয়োগকারীরা ৭.১ শতাংশ হারে সুদে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের মেয়াদে প্রতি বছর সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে ম্যাচিওর হয়ে যাওয়ার পর আবারও ১০বছরের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা রয়েছে। যেখানে মাসিক ১২৫০০ টাকা করে ২৫ বছর বিনিয়োগ করলে চক্রবৃদ্ধি হার সুদে ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে রেকারিং ডিপোজিট, যেখানে ৫.৮% হারে সুদে ২৭ বছর প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা বিনিয়োগ করলে, নির্ধারিত মেয়াদের শেষে ৯৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। তবে এই ফান্ডে যত খুশি টাকা রাখা যেতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই প্রকল্প গুলি ছাড়াও রয়েছে ট্যাক্স সেভার ফিক্সড ডিপোজিট, যেখানে ৮০সি-এর আওতায় সর্বাধিক দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।