ছেলের আশা করে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল মেয়ে, জন্মের ১ মাসের মধ্যেই খুদে কে খুন করল অমানবিক মা

কেন্দ্রীয় সরকারের “বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” প্রকল্পকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই দেশের নানা প্রান্তে কন্যা সন্তান হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে। তবে সব থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, জঘন্যতম এই অপরাধ করছেন স্বয়ং কন্যা শিশুর মা। সম্প্রতি, মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এরকমই এক বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। মেয়ে হওয়ার অপরাধে মায়ের হাতে খুন হতে হয়েছে এক সদ্যোজাত শিশুকে।

ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের খেজুরি গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা সরিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি তার এক মাস বয়সী কন্যা শিশুকে নৃশংস ভাবে খুন করেছেন। কারণ, তিনি পুত্রসন্তান চেয়েছিলেন। পুত্র সন্তানের বদলে কন্যা শিশুর জন্ম হওয়ায় শেষমেষ শিশুটিকে হত্যা করলেন মা। পুলিশ সূত্রে খবর, কন্যা শিশুর জন্মের পর থেকেই তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। কন্যা শিশুর জন্ম স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি সরিতা।

ভোপালের সাব-ইন্সপেক্টর এল ডি মিশ্র জানিয়েছেন, ১৪ মাস আগে ভোপালের খেজুরি গ্রামের দেহারিয়া কালান এলাকার বাসিন্দা সচিন মেওয়াড়ার সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয় সরিতা। একমাস আগে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় সে। তবে শিশুর জন্মের পর থেকেই তাকে ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে সরিতা। বুধবার, শিশুটির সাথে বাড়িতে একাই ছিল সরিতা। স্থানীয় প্রতিবেশী সূত্রে খবর, ঐদিন আচমকাই বাড়িতে চিৎকার করতে শুরু করে সে।

সরিতা জানায়, কোনো এক হিংস্র জন্তু তার সদ্যোজাত সন্তানকে তুলে নিয়ে গেছে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার চাষের জমি গুলিতে তন্ন তন্ন করে শিশুটির খোঁজ চালান। তবে খোঁজ না পেয়ে অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হন তারা। পুলিশ এসে সরীতাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তবে সরিতার আচরণ সম্পর্কে সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর তারা বাড়িতেই শিশুটির খোঁজ শুরু করেন। অবশেষে, বাড়ির ৫০ লিটারের একটি জলের ড্রাম থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।