মহাদেবের মন্দিরে কেন নন্দীর মূ’র্তি থা’কে? জানুন কারণ

শিব হিন্দুধর্মের প্রধান তিন দেবতার অন্যতম এক দেবতা। দেশের সর্বত্রই শিব মন্দির দেখা যায়। আর এই সব মন্দিরের বাইরে থাকে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি। শিব মন্দিরের ভেতরে ঢোকার আগে মন্দিরের দরজার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে থাকা নন্দীর দেখা মিলবেই।

মহাদেবের বাহন হল নন্দী নামের এই ষাঁড়। বলা হয় শিবের বাসভবনের প্রবেশদ্বারের রক্ষীর দায়িত্ব পালন করে নন্দী। মহাদেবের অন্যতম সহচর সে। তাই যেখানেই শিব, সেখানেই নন্দী। শাস্ত্র অনুসারে নন্দী হল পুরুষার্থ অর্থাত্‍ কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক। এখন প্রশ্ন হল কেন শিব মন্দিরের বাইরে সব সময় নন্দীর অবস্থান।

শিব মন্দিরে প্রবেশের আগেই দেখা মেলে নন্দীর। আর পূণ্যার্থীরা নন্দীর কানে ফিস ফিস করে তাঁদের মনের বাসনার কথা জানান। মনে করা হয়, নন্দীর কানে ফিস ফিস করে জানানো মনের বাসনার কথা নন্দী সরাসরি মহাদেবের কাছে পৌঁছে দেবে।

আরো পড়ুন: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সুপারিশে দুই বিজেপি বিধায়কের আত্মীয় চা’ক’রি পেয়েছেন কল্যাণী AIIMS-এ

কিন্তু কেন মহাদেবের এত প্রিয় এই কালো রঙের ষাঁড়?। এই বিষয়ে পুরাণে একটা অত্যন্ত চমকপ্রদ গল্প রয়েছে। সমুদ্র মন্থনের পর অমৃতের ভাগ নিয়ে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে লড়াই বাঁধে।

এই পরিস্থিতিতে অমৃতের পর আরও ভালো কিছু পাওয়ার আশায় সুমুদ্র মন্থন চালিয়ে যাওয়া হয়। অমৃতের পর তখন সমুদ্র গর্ভ থেকে উঠে আসে ভয়ানক বিষ কালকূট।

গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় সেই বিষের ঝাঁঝে। তখন সৃষ্টি রক্ষা করতে সেই বিষ নিজের গলায় ধারণ করেন মহাদেব। বিষ পান করার সময় কয়েক ফোঁটা চলকে বাইরে পড়ে যায়।

তখন সেই কয়েক ফোঁটা বিষ জিভ দিয়ে চেটে নেয় নন্দী। নন্দীর এই কাজে খুশি হয়ে মহাদেব তাঁকে আশীর্বাদ করেন যে শিব ভক্তরা সবাই নন্দীকেও প্রণাম জানাবেন। সব সময় মন্দিরের বাইরে শিব মূর্তির দিকে মুখ করে বসে থাকে নন্দী।

নন্দীর চোখ যেমন মহাদেবের দিকে থাকে, আমাদের মনও তেমন সব সময় নিজের আত্মার দিকে থাকা দরকার। অন্যের ভুল আমরা সবাই দেখতে পাই, কিন্তু নিজেকে ভালো করে চিনতে শিখলে তবেই নিজের ভুলগুলোও চোখে পড়বে। আমাদের শরীর যখন নিজের আত্মার প্রতি উন্মুখ হয়ে থাকবে, তখনই আমাদের মন শুদ্ধ হবে।