আলাপনকে সঙ্গে রাখতে কে’নো এ’ত ল’ড়া’ই মুখ্যমন্ত্রীর? জানুন কারণ

বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই কেন্দ্র এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে সংঘাতে মেতে উঠেছে। আইএএস অফিসার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় সরকার অন্যত্র বদলি করতে চায়। অপরপক্ষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাতছাড়া করতে রাজি নন। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এর দক্ষতার উপর তার প্রবল ভরসা রয়েছে।

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অত্যন্ত বিচক্ষণ, দক্ষ এবং কর্মঠ একজন মানুষ। তৎকালীন বাম আমলেরর মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও তার বুদ্ধিমত্তার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতেন। এখনও আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য প্রশাসনের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিবহণ, ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি শিল্প, তথ্য ও সংস্কৃতি, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের ভার সামলিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের মোকাবিলায় তার দক্ষতা অনুধাবন করে দীঘার সমুদ্র সৈকতের পুনর্গঠনের দায়িত্ব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এইসময় আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য থেকে সরিয়ে দিতে চাওয়ার পেছনে কার্যত দুটি কারণ খুঁজে পাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল। প্রথমত, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বদলি করে দিল্লিতে নিয়ে গেলে কেন্দ্রীয় সরকার একজন দক্ষ সরকারি আমলাকে নিজেদের পক্ষে পেয়ে যেত। অপরপক্ষে রাজ্য সরকারের থেকে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছিনিয়ে নিলে রাজ্য সরকারও দুর্বল হয়ে পড়তো।

তবে আদতে কিন্তু তেমনটা হয়নি। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় শেষমেষ আইএএস অফিসার পদ থেকে অবসর নিয়ে রাজ্যেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। এতে অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার বেজায় ক্ষুব্ধ। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে নিয়ে যেতে না পেরে শেষমেষ তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্র।